টেট দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের, দ্বারস্থ ডিভিশন বেঞ্চে

প্রাথমিক টেট দুর্নীতি মামলায় (TET scam case) সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)। কিন্তু, আজ, বৃহস্পতিবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের ডিভিশন (division bench) বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য।

এই নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করতে চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী। সেই অনুমতি মেলার পরই মামলা দায়ের করা হয়েছে ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের দাবী, হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলির কোনও কথা না শুনেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

২০১৪ সালের প্রাইমারি টেট পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের দাবী, গতকাল, বুধবার আদালতে রিপোর্ট জমা করেছে পর্ষদ। কিন্তু পর্ষদ বা রাজ্যের কোনও কথা না শুনেই এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে ২৬৯ নয়, ২৭৩ জনকে বরং বাড়তি ১ নম্বর করে দেওয়া হয়েছিল। টেটের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল বলে নম্বর বাড়ানোর দাবীতে পর্ষদের কাছে মোট ২৭৮৭টি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এদের মধ্যে ২৭৩ জন প্রশিক্ষিত প্রার্থী ছিলেযাদের বাড়তি ১ নম্বর করে দেওয়া হয়।

পর্ষদের তরফে আরও জানানো হয় যে ২০১৪ সালে অফলাইনে টেট পরীক্ষা হয়েছিল। সেই কারণে তাই অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা পর্ষদের কাছে ছিল না। ফলে এই ১৮ লক্ষের বেশি অসফল প্রার্থীদের মধ্যে থেকে প্রশিক্ষিত এবং ১ নম্বরের জন্য অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের খুঁজে বের করে বাড়তি ১ নম্বর দেওয়া সম্ভব হয়নি পর্ষদের পক্ষে।

এদিকে, আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদে অভিযান চালায় সিবিআই। এখানে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, এদিন ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদের মধ্যে রয়েছেন পর্ষদের অ্যাডমিনও। একদিকে যখন মধ্যশিক্ষা পর্ষদে তল্লাশি চলছে, সেই সময় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য গেল ডিভিশন বেঞ্চে।

RELATED Articles

Leave a Comment