West Bengal : “আমার মৃ*ত্যু হলে দায় মমতা-অভিষেক”—সাসপেন্ডেড কাউন্সিলরের অভিযোগে তমলুকে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য!

তমলুক পুরসভা ঘিরে টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কয়েকদিন ধরেই। চেয়ারম্যান বদল, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি, দলীয় অন্দরের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছিল। ঠিক এই পটপরিবেশের মধ্যেই এমন এক মন্তব্য সামনে এসেছে, যা স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কাউন্সিলরদের ভেতরের দ্বন্দ্ব এবার সরাসরি রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে।

তৃণমূলের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের প্রথম বোর্ড মিটিংতেই অনুপস্থিত ছিলেন দলেরই ৯ কাউন্সিলরসহ ১১ জন সদস্য। এই ঘটনার পরই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয় ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতিকে। সাসপেনশনের পরই তিনি সামনে আনেন নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ। বলেন, আগে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও বহিষ্কারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর সিকিউরিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিয়মিত চিঠিও দিয়েছেন জেলা প্রশাসনকে, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি—এমনই দাবি তাঁর।

এই উত্তেজনার মাঝেই পার্থসারথির ভয়ংকর অভিযোগে রাজনৈতিক মহল তোলপাড়। তাঁর বক্তব্য, “যদি আমার মৃত্যু হয়, তার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে বহুবার ফোনে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এক মাস আগে এক তৃণমূল নেতা ফোনে হুমকি দিলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। নিরাপত্তাহীনতা থেকে শুরু করে বারবার হুমকি—এই সবই তাঁকে চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।

সাসপেন্ডেড কাউন্সিলরের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া। পার্থসারথির দাবি, চঞ্চল খাঁড়া শুভেন্দু অধিকারীর “ভাবশিষ্য” এবং অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। তিনি আরও বলেন, জেলা নেতৃত্ব শুধুই চঞ্চলের সঙ্গে বসে “টাকা তোলা” নিয়েই ব্যস্ত। অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়—IPAC–কে তিনি সরাসরি অভিযুক্ত করেন টাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তাঁর বক্তব্য, দলের কর্মীরা চেয়ারম্যান নির্বাচনে মতামত দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলি মানা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ Astrology: শুক্রের গোচরে বড় বদল! বছর শেষে রোম্যান্স, সৌভাগ্য আর উপার্জনে সুখবর এই ৩ রাশির জন্য

অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, পার্থসারথি মাইতির আচরণ সম্পূর্ণ দলবিরোধী। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া জানান, যে কোনও অভিযোগ আইন মেনেই খতিয়ে দেখা হবে, তবে যে ব্যক্তি এমন মন্তব্য করেন, তিনি দলের প্রতিনিধি হতে পারেন না। লোকসভা নির্বাচনের ফলের পর পুরসভায় রদবদল হয়েছে, আর এটাই কয়েকজনের অস্বস্তির কারণ—এমনটাই মত দলের। তবে এই বিতর্কের পর তমলুকে যে রাজনৈতিক সুর আরও তীব্র হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর