রাজ্যে ভোটের মরসুম সামনে। অথচ তার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মানুষ অভিযোগ করছেন, হঠাৎ করেই তাঁদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে উধাও। কারও কারও হাতে এসেছে ‘নাম নেই’ বার্তা—যা স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের। কিন্তু এই উদ্বেগকে আরও গভীর করে দিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে তোলা কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ, যেগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় চলছিল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপড়েন। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর স্থগিতের জন্য কমিশনে চিঠি দেন। ঠিক দু’দিনের মাথায় সোজা সিইও দফতরে হাজির হন তৃণমূল প্রতিনিধি দল—চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস ও পার্থ ভৌমিক। তার আগে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের বিভিন্ন বুথে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস দাবি করেন, “প্রত্যেকটি বুথে ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫০-২০০ করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, যেসব নাম কমিশনের ওয়েবসাইটে নেই বলে দেখানো হচ্ছে, ২০০২ সালের হার্ড কপিতে সেই নামগুলিই রয়েছে। এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন—ভোটার কার্ড নম্বর ভুল করে বসানো হচ্ছে, সম্পর্কের তথ্য গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভুল ছবি লাগানো হচ্ছে—যার ফলে সাধারণ মানুষ ফর্ম পূরণ করলেও অ্যাপস গ্রহণ করছে না। তাঁর অভিযোগ, “ভুলে ভরা এই ওয়েবসাইট মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ভয়ে আত্মহত্যাও করেছেন অনেকে।”
অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের। একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা বিশৃঙ্খল করা হলে তার প্রভাব পড়বে কোটি কোটি ভোটারের ওপর। উল্লেখযোগ্যভাবে আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, প্রায় ২ কোটি নাম বাদ যেতে পারে। ফলে দুই পক্ষের অভিযোগ–প্রতিআপত্তিতে আরও ঘন হয়েছে রাজনৈতিক কুয়াশা।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : “আমার মৃ*ত্যু হলে দায় মমতা-অভিষেক”—সাসপেন্ডেড কাউন্সিলরের অভিযোগে তমলুকে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য!
বিজেপি দলের বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, “এই অভিযোগ প্রেস মিটে বললে হবে না, আদালতে যাওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, তৃণমূল বুঝতে পারছে ২০২৬ সালে হার নিশ্চিত। সে কারণেই আগেভাগে অভিযোগের পাহাড় সাজানো হচ্ছে। তিনি আরও কটাক্ষ করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও মৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ায় আতঙ্কিত হচ্ছে শাসক দল। এই প্রতিটি মন্তব্যে আরও একবার স্পষ্ট—ভোটের আগে ভোটার লিস্ট ইস্যু ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ শুধু বাড়তেই থাকবে।





