স্বরাষ্ট্র থেকে বিদ্যুৎ নিজের হাতেই রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী! নতুন মন্ত্রিসভায় কে পেলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দফতর, প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ তালিকা!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর অবশেষে মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন সম্পূর্ণ হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের হাতে কোন দফতরের দায়িত্ব যাচ্ছে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। বুধবার নবান্ন থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেই জল্পনার অবসান ঘটানো হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব এই তিন দিককে সামনে রেখেই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১ জুন দ্বিতীয় দফায় শপথ নেন আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর থেকেই কার হাতে কোন দফতর যাবে তা নিয়ে কৌতূহল ছিল রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। অবশেষে দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠকের পর দফতর বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জঙ্গলমহল অঞ্চল থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও চার জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া সাত জন মহিলা মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দফতর বণ্টনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের কাছেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রেখে দিয়েছেন। তাঁর হাতে রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন দফতর। প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রণ এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রগুলিকে নিজের অধীনে রাখার মাধ্যমে তিনি সরাসরি নজরদারি বজায় রাখতে চাইছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে দীপক বর্মন পেয়েছেন স্কুলশিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর। তাপস রায়ের হাতে গিয়েছে শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতর। শঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন পর্যটন এবং সংসদীয় বিষয়ক দফতর। মনোজ কুমার ওঁরাও বন ও পরিবেশ, অর্জুন সিংহ পরিবহণ ও শ্রম, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বপন দাশগুপ্ত অর্থ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য এবং অগ্নিমিত্রা পাল নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের মধ্যে মালতি রাভা রায় পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ, রাজেশ মাহাতো প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য এবং ইন্দ্রনীল খাঁ ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব।

আরও পড়ুনঃ পরপর তিনবার তলব এড়িয়ে দিল্লিতে অভিষেক, এবার তাঁর গতিবিধির খোঁজে সিআইডি! কলকাতায় পা রাখলেই কি ঘনাবে বিপ*দ, গ্রেফ*তারির আশঙ্কা ঘিরে বাড়ছে জল্পনা?

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও দায়িত্ব বণ্টনে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। জোয়েল মুর্মু, অশোক দিন্দা, শান্তনু প্রামাণিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, গার্গী দাস ঘোষ, বিরাজ বিশ্বাস এবং সুমনা সরকারের মতো নেতাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। নতুন এই মন্ত্রিসভা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। দফতর বণ্টনের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রশাসনিক টিমের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন। এবার সেই টিম বাস্তবে কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর