পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা সময়ে। এবার বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ড ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে রাজ্যের শাসক শিবিরে। আর সেই মামলাতেই তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির নজরে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর তিনবার তলব এড়ানোর পর তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই তিনবার নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি। প্রথমবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয়বারও তিনি ভবানীভবনে যাননি। তৃতীয়বার সিআইডির তলবের দিন দিল্লিতে থাকার কথা জানিয়ে তদন্তকারীদের কাছে আরও সময় চান তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং সেই কারণেও তিনি কিছুটা সময় চাইছেন। কিন্তু পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় তদন্তের গতি এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিআইডি। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তিনি কলকাতায় ফিরলেই তদন্তকারী সংস্থা তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। এমনকি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে নোটিস দেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির কোনও সরকারি ঘোষণা বা নির্দেশ প্রকাশ্যে আসেনি। তবুও তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে নানা মহলে জল্পনা বাড়ছে, কলকাতায় ফিরলে কি বড় কোনও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন অভিষেক?
অন্যদিকে, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পৌঁছে যায় সিআইডি। তদন্তকারীরা সেখানে বেশ কিছু নথি খতিয়ে দেখেন। অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য বিধায়কদের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সই নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিধানসভার সচিবের নজরে বিষয়টি আসার পর অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করেছে তদন্তকারী সংস্থা। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, তাঁদের সই নিয়ে গরমিল রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
আরও পড়ুন: ‘সৌজন্যের খাতিরে? সেই সৌজন্য আমায় দেখাতে পারেননি…’ নাম নিলেন না, ইঙ্গিত স্পষ্ট! টলিউডে নতুন চাপানউতোর, কটা’ক্ষে কাকে বিঁধলেন অরিত্র দত্ত বণিক?
এদিকে সিআইডির তলব থেকে রেহাই চেয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁর মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের সিদ্ধান্তই এখন অনেকটাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতি। যদি আদালত কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা না দেয়, তাহলে তদন্ত আরও দ্রুত এগোতে পারে। আবার আদালত যদি অভিষেককে স্বস্তি দেয়, তাহলে তদন্তের গতি অন্য পথে যেতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই মহলের নজরই রয়েছে হাইকোর্টের দিকে। এখন দেখার, আদালতের রায়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফেরেন কি না এবং ফিরলে সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।






