‘কালী’ তথ্যচিত্রের বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। তৃণমূল সাংসদের গ্রেফতারির দাবী করেছেন বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকরা। এর মাঝে এবার পুলিশকে (Police) আটদিন সময় বেঁধে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট জানান যে এর মধ্যে পুলিশ যদি কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তাহল আদালতে যাবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার একটি পোস্টার টুইট করে পরিচালক লীনা মানিমেকালাই। এই পোস্টারে মা কালীর বেশে এক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর হাতে ধরা LGBTQ+-এর একটি পতাকা। এই পোস্টারকে নিয়েই ছড়ায় ব্যাপক বিতর্ক।
নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন লীনা মানিমেকালাই। অবিলম্বে ওই পোস্টার বাতিলের দাবী জানানো হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকী পরিচালককে গ্রেফতারির দাবীও তুলেছেন অনেকেই। ‘গও মহাসভা’র নেতা অজয় গৌতম ওই ছবি এবং পোস্টারের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশে অভিযোগ জানান।
এই ঘটনায় তথ্যচিত্রের পরিচালকের পাশে দাঁড়ান মহুয়া মৈত্র। গতকাল, মঙ্গলবার মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমার কাছে কালী মানে যিনি মাংস ভক্ষণ এবং সুরা গ্রহণ করেন। নিজের ভগবানকে তুমি কীভাবে দেখতে চাও তা কল্পনা করার অধিকার রয়েছে। কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে ভগবানকে হুইস্কি দেওয়া হয়, আবার কিছু কিছু জায়গায় তা ভগবানের অপমানের সমান”। তবে তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে মহুয়ার এই মন্তব্যকে সমর্থন করে না দল। এটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য।
আজ, বুধবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ভবানীপুরে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে এসে এই প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “পয়গম্বর বিতর্কে নূপুর শর্মার গ্রেফতারির দাবী তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কালী নিয়ে তো এরকম কিছু হচ্ছে না। আমরা সাত-আটদিন অপেক্ষা করব। তারপরও যদি রাজ্য সরকার কোনও কড়া পদক্ষেপ না করে তাহলে সব অভিযোগ এক জায়গায় করে আদালতে যাব”।
এদিন শুভেন্দু এও জানান যে তৃণমূল সাংসদের এহেন মন্তব্যের জেরে বিক্ষোভ মিছিল করবে বিজেপি। এই বিতর্ক নিয়ে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে রাজনীতির লড়াইটা রাজনীতির ময়দানে হওয়াই ভালো। সবকিছুতে আদালতকে টেনে আনার দরকার নেই। এই নিয়ে পাল্টা শুভেন্দু বলেন যে মহুয়ার মন্তব্যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে।





