এর আগেও তিনি ডিয়ার লটারি নিয়ে নানান মন্তব্য করেছেন। এই লটারির সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের যোগসূত্র রয়েছে, তাও দাবী করেছেন তিনি। এবার ফের একবার বিতর্ক উস্কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “ডিয়ার(ভাইপো) লটারির সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের সম্পর্ক রয়েছে। এর মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করছে শাসক দল”। এমনকি, তিনি এও দাবী করেন যে এই ঘটনার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জড়িত।
আসলে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ডিয়ার লটারির মাধ্যমে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১ কোটি টাকা জিতেছিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সেই নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বর্তমানে সেই অনুব্রতই গরু পাচার মামলায় জেলে রয়েছেন। এরই মধ্যে এবার ডিয়ার লটারির মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন জোড়াসাঁকোর তৃণমূল বিধায়ক বিবেক গুপ্তর স্ত্রী রুচিকা। এই ঘটনায় বিধায়কের স্ত্রী বেশ খুশি হলেও, এ নিয়ে আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
এই ডিয়ার লটারি প্রসঙ্গে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে শুভেন্দু লেখেন, “ডিয়ার (ভাইপো) লটারির সাথে শাসকদল তৃণমূলের সরাসরি সম্পর্ক আছে একথা আমি বরাবর বলে এসেছি। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষই বেশীরভাগ লটারি কাটেন তাদের অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু টিকিট সাধারণ মানুষ কাটলেও লটারির জ্যাকপট পুরষ্কারের অঙ্ক কিন্তু তোলামূলী নেতাদের জন্য সংরক্ষিত। আগেও জানা যায় যে অনুব্রত মন্ডল ডিয়ার (ভাইপো) লটারির প্রথম পুরস্কার; ১ কোটি টাকা জিতেছেন, এখন আবার দেখছি গতকাল তৃণমূল বিধায়ক বিবেক গুপ্তর স্ত্রী প্রথম পুরস্কার; ১ কোটি টাকা জিতেছেন। সত্যি তৃণমূল নেতাদের ভাগ্য বটে, ডিয়ার (ভাইপো) লটারির প্রথম পুরস্কার একেবারে বাঁধা”
তাঁর সংযোজন, “আসলে এই লটারির আড়ালে পশ্চিমবঙ্গে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হচ্ছে। এই বিষয়ে গত বছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় শ্রী অমিত শাহজি-কে বিস্তারিত জানিয়ে আমি একটি চিঠিও দিয়েছিলাম। তখন এই সব খবর প্রকাশিত হয় নি”।
রাজ্যের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে শুভেন্দু আরও লেখেন, “গোটা পশ্চিমবঙ্গে যেদিকেই আপনি তাকাবেন বাস স্ট্যান্ড বাজার, পাড়ার মোড়ে, দেখবেন একটি ছোটো টেবিল আর চেয়ার সাথে লটারি নিয়ে এজেন্টরা বসে আছে। সাধারন খেটে খাওয়া দরিদ্র শ্রেনীর মানুষ রাতারাতি কোটিপতি হবার প্রলোভনে পা দিচ্ছেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থে এই লটারি কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন যা যথেষ্ট উদ্বেগের। আর দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের এক শ্রেনীর নেতারা সেই অর্থে লাভবান হচ্ছেন। তৃণমূল নেতাদের কালো টাকা সাদা করার পন্থা হলো ডিয়ার (ভাইপো) লটারি”।





