সামাজিক মাধ্যমে একটি শিশুকে পুলিশ মারছে— এমন একটি ভিডিয়ো ঘিরে ফের চরম রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতি জুড়ে। ওই ভিডিয়োটি নিয়ে পোস্ট করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ঘটনাটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি এবার মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি পুলিশের দাবি, ওই ভিডিয়ো ভুয়ো। আর সেই ভুয়ো ভিডিয়ো শেয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের আইনব্যবস্থাকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।
এদিন মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওই ভিডিয়ো সম্পূর্ণ ভুয়ো। দিল্লি পুলিশ তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত সেই পোস্ট ডিলিট করেননি। আর সেটাই প্রমাণ করে উনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছেন।” তাঁর কথায়, এই কাজে দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শীঘ্রই FIR দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভারতের সংবিধানে আইনপ্রণেতাদের জন্য আলাদা কোনও সুবিধা নেই। শুধুমাত্র সাংবিধানিক পদাধিকারীদের জন্য কিছু অনুমতির দরকার হয়। তবে সেটাও দায়মুক্তির শামিল নয়। আইনের চোখে সবাই সমান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে নন।” তিনি এ-ও বলেন, “বিধান রায় যে চেয়ারে বসতেন, সেটিকে তিনি কোথায় নামিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।”
এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দুবাবু। অতীতে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতার জেরে সাধারণ মানুষ বা শিল্পী, সাংবাদিকদের কীভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে, সেই দৃষ্টান্তও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “একটা কার্টুন আঁকার জন্য অম্বিকেশ মহাপাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রান্তিক শিলাদিত্যকে মাওবাদী তকমা দিয়ে আটকে রেখেছেন। সাংবাদিক, ইউটিউবারদেরও সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই মামলা করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : “কাশ্মীরের আজকের জটিলতা শুরু হয়েছিল নেহরুর হাত ধরে!”— সংসদে অপারেশন মহাদেব ঘিরে ইতিহাস টেনে কংগ্রেসকে তোপ অমিত শাহের!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই ভিডিয়ো পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজ্য-রাজনীতিতে এই ঘটনাটি আগামী দিনে যে আরও বড় বিতর্কে রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। FIR সত্যিই দায়ের হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।






