সাম্প্রতিক কাশ্মীর অভিযান ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংসদ। একদিকে সেনার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শাসক দল, অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রশ্নের ঝড়। কিন্তু সেই প্রশ্নই যেন বুমেরাং হয়ে ফিরে এল বিরোধীদের দিকে। সংসদে দাঁড়িয়ে একের পর এক ইতিহাস তুলে ধরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাশ্মীর সমস্যা থেকে শুরু করে সিন্ধু চুক্তি, উঠল একাধিক পুরনো প্রসঙ্গ।
অপারেশন মহাদেব ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্ন তুলতেই ইতিহাস খুঁড়ে কংগ্রেসকে একহাত নিলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “যে প্রশ্ন করছে তারা জানুক, অধিকৃত কাশ্মীরের আজকের সমস্যার গোড়ায় রয়েছে জওহরলাল নেহরুর ভুল সিদ্ধান্ত।” ১৯৬০ সালে সিন্ধু জলচুক্তিতে পাকিস্তানকে ৮০ শতাংশ জল দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। এছাড়া উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের শিমলা চুক্তির সময়েও অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত চাওয়ার কোনও প্রয়াস নেয়নি তৎকালীন কংগ্রেস সরকার।
সিন্ধু চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “যখন পাকিস্তানকে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির সুযোগ দেওয়া হয়, তখন একমাত্র সর্দার প্যাটেল তাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন।” তাঁর দাবি, “যদি সেই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত, তাহলে আজ অপারেশন চালিয়ে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হত না।” শাহ স্পষ্ট জানান, কংগ্রেসের ‘ঐতিহাসিক ভুলেই’ আজ ভারতের এত সমস্যার জন্ম হয়েছে।
অমিত শাহ সংসদে জানান, সোমবার পহেলগাঁওয়ে সেনার অপারেশনে খতম হয়েছে তিন জঙ্গি। তিনি বলেন, “এই জঙ্গিরা সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেনা অভিযান ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে তাদের নিকেশ করেছে।” শাহ নিহত জঙ্গিদের নাম প্রকাশ করে বলেন— সুলেমান, আফগান ও জিবরান। তাঁদের খাদ্য জোগাতে সাহায্য করা এক ব্যক্তিকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তার থেকেই তথ্য পেয়ে অপারেশন সফল হয়।
আরও পড়ুনঃ ডার্বির পরেও অপ্রতিরোধ্য ইস্টবেঙ্গল! বেহালাকে ৬ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল
সেনার সাফল্যে প্রশংসার সুরে না গেয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলায় তীব্র কটাক্ষ করেন শাহ। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তাঁরা তিন জঙ্গির মৃত্যুর খবরে খুশি হবেন। কিন্তু তাঁদের মুখে তো হতাশা। অপারেশনের সফলতার খবরও যেন ওদের পছন্দ হয়নি।” তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, কংগ্রেসের ইতিহাস ঘেঁটে বর্তমান অপারেশনের প্রাসঙ্গিকতা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি। পাঠকের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়— ইতিহাস কি সত্যিই নিজেদের ভুলেই পুনরাবৃত্তি করে চলেছে?





