‘কেষ্ট মণ্ডল তো তিহাড়ে গেল, এবার ছোটো কেষ্টগুলোর জন্য অন্য ব্যবস্থা আছে’, বগটুইয়ে দাঁড়িয়ে ফের শাসকদলকে নিশানা শুভেন্দুর

আজ, মঙ্গলবার ছিল বগটুই হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তি। এই বর্ষপূর্তির জন্য শহিদ বেদি তৈরি করা নিয়ে গতকাল, সোমবার থেকেই সেখানে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা। আজ ওই গ্রামে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে শাসক দলকে ফের একবার আক্রমণ শানান তিনি।

এদিন বগটুইয়ে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজকে যেমন আমাদের শোকের দিন তেমন, গোটা বীরভূমের আনন্দেরও দিন। কারণ বীরভূমের বেতাজ বাতসা আজ তিহাড়ে গিয়েছেন”।

এরপরেই বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি সিউড়িতে এসে বলে গিয়েছিলাম কেষ্ট মণ্ডল তিহাড়ে যাবেন। আজ গেছেন। আর যে সব ছোট কেষ্টগুলো আছে তাঁদের জন্য আমার অন্য ব্যবস্থা আছে”।

এদিন বগটুইয়ে দাঁড়িয়েই বীরভূমে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান যে আগামী ৪ঠা এপ্রিল মুরারইয়ে সমাবেশ করবেন তিনি।

২০২২ সালের ব২১শে মার্চ। এই দিনটি শুধুমাত্র রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের জন্যই নয়, গোটা রাজ্যের জন্য একটা কালো দিন। এদিন ত্রিনপমুল উপপ্রধান ভাদু শেখের খুনের আগুন জ্বলেছিল এই গ্রামে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় একাধিক বাড়ি। আর সেই বাড়ির সঙ্গেই পুড়ে ছাই হয়ে যান ১০ জন। এদিন ওই গ্রামে গিয়ে বিজেপির তৈরি শহিদ বেদিতে মালা দেন শুভেন্দু। এদিন সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, “একুশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের সিএএ-এনআরসি নিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। তাই বিজেপি ১৭টি ভোট পেয়েছিল। কিন্তু আজকে আমরা ভোট চাইতে আসিনি। যারা সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করেছে তারাই নিরীহ মহিলা, নিষ্পাপ শিশুদের পুড়িয়ে মেরেছে”।

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এই শুভেন্দুই তো তাঁর নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে মুসলমানদের জেহাদি বলেন। তিনি এখন ওখানে কুমিরের কান্না কাঁদতে গেছেন। বগটুইয়ে একটা ঘটনা ঘটেছিল। তার বিরুদ্ধে পুলিশ যেমন ব্যবস্থা নিয়েছে তেমন মুখ্যমন্ত্রীও মানবিক হয়ে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন”।

RELATED Articles