রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ, মঙ্গলবার আরামবাগে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান শুভেন্দু। বিকেলে আসেন বিজেপির আরামবাগের জেলা সাংগঠনিক কার্যালয়ে।
সেখানেই সাংবাদিক বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মমতাকে শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “উনি ছবি তুলতে এসেছিলেন। তার পর চলে গেলেন। এখানে তো বাঁধ মেরামতি হয়নি। এখানে কোনও মিটিং-ও করেননি”।
কিছুদিন আগেই আরামবাগ সফরে এসে ডিভিসি-কে দোষারোপ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতার দাবী, সেচ দফতরের গাফিলতির কারণেই এই বন্যা হয়েছে। এর জেরে মানুষের এই দুরবস্থা। তিনি বলেন, “উনিই (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তো তখন সেচ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বন্যা, বাঁধ নিয়ে কোনও প্রস্তুতি নেননি। তিনি ভোট আর ভাতা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। উনি ডিভিসিকে দোষ দিচ্ছেন। কিন্তু ডিভিসি ৭২ ঘন্টা আগে জানিয়ে ছিল। ডিভিসির জল ছাড়লে নদী বাঁধ উপচে যায়। কিন্তু বাঁধ ভেঙে এবারে জল ঢুকেছে। তাহলে এটা তো রাজ্য সরকারের ত্রুটি”।
এর আগেও দক্ষিণবঙ্গে একের পর এক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের উপনির্বাচন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে বন্যা পরিস্থিতি দেখার সময় পাননি। এমনকি এদিন তিনি রাজ্য সরকারকে অপদার্থ বলেও আক্রমণ করেন।
এদিন বন্যাবিধ্বস্ত আরামবাগে এসে শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন যে মমতার সরকার কোনও বাঁধ মেরামতই করেনি। বন্যা পরবর্তী পর্যায়ে মানুষের ত্রাণ সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সরকার সেটা নিয়েও অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে দলবাজি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপরই পূর্বতন বাম সরকারের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর দাবী, “আমি বামেদের আমলে কাউন্সিল ছিলাম, এমএলএ, এমপি ছিলাম। তখনও বন্যা হয়েছে। তখন কিন্তু বাম সরকার ত্রাণ নিয়ে কোন রকম দলবাজি করেনি। এরা যেটা করছে, তা অত্যন্ত সংকীর্ণ ভাবে করছে”।
শুধু তাই-ই নয়, এদিন আরামবাগে বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “দেখুন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যেটা বলছেন সেই মাস্টার প্ল্যানে দেখবেন আরামবাগের নামই নেই। আসলে এই সরকার কাটমানির সরকার, এই সরকার ভাতা দেওয়ার সরকার”।






