ছুটির ভিড় না হলেও, দীঘার সমুদ্রের ধারে এই আগস্ট মাসে শুরু হয়েছে অন্যরকম গমগমে পরিবেশ। লাল, গেরুয়া, সাদা পতাকা আর ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী। এই দৃশ্য শুধুই তীর্থযাত্রা নয়, বরং এক রাজনৈতিক বার্তাবাহী কর্মসূচি— ‘হিন্দু সুরক্ষা যাত্রা’। বালির উপর দিয়ে এগিয়ে চলা এই পদযাত্রা ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক, রাজনৈতিক তরজা এবং সাধারণ মানুষের কৌতূহল।
এই যাত্রার মূল আয়োজক বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষে অনুমতি মিলেছে এই কর্মসূচির। আদালতের অনুমতির পর, নির্ধারিত পথে ও নিয়ম মেনে শুরু হয়েছে এই যাত্রা। আন্দোলনের মুখ শুভেন্দু অধিকারী নিজে মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং রয়েছেন মাঝ বরাবর, যেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় শক্তি। তার চারপাশে রয়েছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা, যারা গেরুয়া পোশাকে সজ্জিত হয়ে স্লোগান তুলছেন ‘হিন্দু ঐক্য বজায় রাখো’।
এই মিছিলের উল্লেখযোগ্য দিক হল, এতে শুধুমাত্র পুরুষ বিজেপি কর্মী বা রাজনীতিকরাই নন, অংশ নিয়েছেন বহু মহিলা, এমনকি হিন্দু ধর্মীয় সাধু-সন্ন্যাসীরাও। দীঘার বিভিন্ন আশ্রম এবং ধর্মীয় কেন্দ্র থেকে আনা হয়েছে একাধিক গেরুয়া বসনে আবৃত সাধুদের। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘এই যাত্রার উদ্দেশ্য হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা। তাই সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ, হোক সে সাধু কিংবা সাধারণ নারী, সকলেই এই কর্মসূচির অংশ।’’ তীর্থভবনের গণ্ডি পেরিয়ে ধর্ম এবং রাজনীতির এই সংমিশ্রণ দিয়েই কার্যত বার্তা দিতে চাইছেন তিনি।
যাত্রার রুট ঘিরে গোটা দীঘা শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স। এই যাত্রা দীঘার মূল সমুদ্রতট ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড, রয়েছে নজরদারির জন্য ড্রোনও। জনসাধারণের চলাফেরাও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সাময়িকভাবে। অনেক পর্যটক হঠাৎ এমন জমায়েতে বিস্মিত, কেউ কেউ মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করছেন এই দৃশ্য।
আরও পড়ুনঃ Culture Clash: আমেরিকায় শীর্ষপদে ভারতীয় মহিলা, কপালের টিপ ঘিরেই শুরু কটাক্ষ—এবারও কি লক্ষ্য ভারতের সংস্কৃতি?
সূত্রের খবর, ‘হিন্দু সুরক্ষা যাত্রা’র সমাপ্তি হবে দীঘার ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে। সেখানেই ভাষণ দেবেন শুভেন্দু অধিকারী। মূলত হিন্দু সমাজের ঐক্য, ধর্মীয় অধিকার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করাই এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে এই ধরনের আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু। এখন দেখার, রাজনৈতিক সমর্থন ও বিরোধের এই টানাপোড়েনে এই যাত্রা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের রাজনৈতিক বৃত্তে।





