যাঁরা জীবনের অর্ধেক সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করেন, তাঁদেরই কি আজ নিজেদের অধিকারের জন্য পথে নামতে হয়? শিক্ষার মন্দিরে শিক্ষকদের অসম্মানিত হতে দেখে কষ্ট পাননি এমন মানুষ কম। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে বসা চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা আশার আলো দেখতে না পেয়ে অবশেষে রাস্তায় নামলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—সেই প্রতিবাদও কি আজ অপরাধ?
চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি, চোখে স্বপ্ন আর গলায় প্রতিবাদের সুর—এসব নিয়েই বিকাশ ভবনের সামনে একজোট হয়েছিলেন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের রূপ যে এমন ঘোর অন্ধকারে মোড় নেবে, তা কে জানত! পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আর শেষে শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ—এসব দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সত্যিই ন্যায় পাওয়ার পথও আজ বন্ধ হয়ে গেল?
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকরিহারা এসএলএসটি শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিকাশ ভবনের গেটে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন আন্দোলনকারীরা গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। এই সময় একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার মারধোরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক।
ঘটনার পর রাতে বিধাননগর থানার পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ—সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি কর্মীদের অবৈধভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টায় যুক্ত ছিলেন আন্দোলনকারীরা। ২০১৬ সালের এসএলএসটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি না পাওয়া শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার মঞ্চ’-এর একাধিক সদস্যের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে একাধিক ধারায়।
আরও পড়ুনঃ Bikash Bhavan Protest: বিকাশ ভবনে ফের উত্তেজনা, ব্যারিকেড ফেলে পথে বসে বিক্ষোভ চাকরিহারাদের
এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, “আমরা কোনও ভাঙচুর করিনি। পুলিশের প্ররোচনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এখন কয়েকটি ছবি সামনে এনে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল প্রচার চালানো হচ্ছে।” আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মামলা করে তাঁদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁদের দাবি একটাই—যোগ্যতার ভিত্তিতে হকের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।





