সকালে নিয়মমাফিক স্কুলই চলে। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামলেই সেই স্কুলেই চলতে থাকে নানান অসামাজিক কাজ। বসে ম’দের আসর। আর সকালে স্কুলে এসে প্রথমে নিয়ে ম’দের বোতল, গ্লাস সরানোর কাজে লেগে পড়েন শিক্ষকরা। স্কুলের নানান প্রান্ত থেকে মিলেছে ক’ন্ডো’ম, এমনও অভিযোগ শিক্ষকদের। আর এর জেরে বেশ সমস্যার মুখে পড়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। নিত্যদিন এই একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে তাদের।
ঘটনাটি ঘটেছে পান্ডুয়ার সিমলাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের আরতি গ্রামের রাস্তার ধার থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা মাঠের উপর অবস্থিত আর্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা যাচ্ছে, এই স্কুলে ক্লাস শুরু হয় সকাল দশটা থেকে। তা চলে বিকেল পর্যন্ত। আর স্কুল ছুটি হওয়ার পর সন্ধ্যে নামলেই শুরু হয়ে যায় নানান অসামাজিক কাজকর্ম।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকালে স্কুলে ঢুকেই পড়ুয়াদের পড়ানোর আগে স্কুলের নানান প্রান্ত থেকে ম’দের বোতল সরানো ও নানান জিনিস পরিষ্কার করাই তাদের প্রাথমিক কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই এই একই অবস্থা চলছে। স্কুলের এমন পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উপরেও। এই স্কুলের তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। আর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মোট ১০৫ জন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে এই স্কুলে চলে নানান নোংরা কাজ। দুষ্কৃতীরা এসে এখানে ম’দ্যপান করেন। আর এর জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সবাই। স্কুলের তরফে দীর্ঘদিন দাবী করা হয়েছে যাতে স্কুল চত্বরকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। কিন্তু সেই দাবী মেটেনি। এখন একরকম দুষ্কৃতীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই স্কুল। নানান সময় স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা যাচ্ছে। শিক্ষকদের দাবী, যাতে পান্ডুয়া প্রশাসন এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে। যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে কোনও ধরনের মন্তব্য করতে চাননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম চৌধুরী।
এই বিষয়ে হুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন শিল্পা নন্দী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা ঘটছে শুনেছি। পান্ডুয়া থানায় জানিয়েছিলাম। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে। আর এর জন্য প্রয়োজন পাঁচিলের। আর যত শীঘ্র সম্ভব এর ব্যবস্থা করা হবে”।
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অমিতাভ ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “এই ঘটনার সম্পূর্ণ নিন্দা করি এবং প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি জনগণ কেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। স্কুলে যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে”।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই স্কুলে কোনও পাঁচিল নেই। স্কুলটি মাঠের মাঝখানে অবস্থিত। রাতের অন্ধকারে এই স্কুলে নানান অসামাজিক কাজ চলে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে রাতে এই স্কুলে পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।





