চলছে পৌষমাস। এই সময় কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে কাঁপুনি ধরার কথা। তা না, এখন তো উল্টে লেপ-কম্বল তুলে রাখতে হচ্ছে বঙ্গবাসীকে। কারণ বঙ্গ থেকে উধাও শীত। সকাল-সন্ধ্যে একটি শীতের আমেজ থাকলেও দিনের বেলা শীতের দেখা নেই। নতুন বছরে কী আদৌ ফিরবে শীত? নাকি শীতের ইনিংস এখানেই শেষ? প্রশ্ন বঙ্গবাসীর মনে।
কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস?
আলিপু আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলকাতার তাপমাত্রা কমতে পারে। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে পারে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি বা তুষারপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই দার্জিলিংয়ে । কনকনে ঠান্ডাও পড়বে না। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরের সব জেলার আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। চলতি সপ্তাহে খুব বেশি ঠান্ডা পড়বে না। বৃষ্টিরও কোনও পূর্বাভাস নেই বলেই জানাল হাওয়া অফিস।
আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতায় সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫৪ থেকে ৯২ শতাংশ। সকাল ও সন্ধ্যায় শীতের আমেজ থাকবে। তবে দিনের বেলায় কার্যত শীত উধাও।
কেন এমন হাল হল আবহাওয়ার?
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে জানুয়ারির শুরুতে ফের বঙ্গের আকাশে মেঘ ঢুকবে। এর জেরে আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর জেরেই পূবালি হাওয়ার দাপট বাড়ছে। উত্তর-পশ্চিমী শীতল হাওয়ার প্রভাব কমেছে। এর ফলেও কার্যত উধাও শীত। চলতি বছর আর কলকাতায় জাঁকিয়ে শীতের সম্ভাবনা আর নেই।
বছর শুরুতেই কী বৃষ্টি হবে?
সেই গতিবিধির দিকেই আপাতত নজর রয়েছে হাওয়া অফিসের। অধিকর্তা ডাঃ গণেশ কুমার দাস জানিয়েছেন, এ বছর ডিসেম্বরের শেষ কয়েক দিন আবহাওয়া একই রকম থাকবে। আগামী চার-পাঁচ দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে নীচে নামার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের উপর অবস্থান করা ঘূর্ণাবর্তের জন্যই এ বছরের শেষে শীতের আমেজ থেকে বঞ্চিত থাকবে বঙ্গবাসী।






