করোনার জেরে মৃত্যু হয়েছে, এমন এক ব্যক্তির অটোপসি রিপোর্ট মিলল আজ। এই ঘটনা শুধু রাজ্যেই নয়, গোটা দেশেও প্রথম, এমনটাই দাবী ওয়াকিবহাল মহলের। এই পরীক্ষার রিপোর্টে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে গণদর্পণের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজ্যে মরণোত্তর দেহদানের পথিকৃৎ ব্রজ রায়ের মৃত্যু হয় করোনার জেরে। তাঁর ইচ্ছে ছিল যে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দান করা হবে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তবে তাঁর দেহ ক্লিনিক্যাল অটোপসির জন্য স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাজ্যে তো প্রথম বটেই, দেশেও সম্ভবত এই প্রথম করোনায় মৃত কোনও ব্যক্তির দেহ ক্লিনিক্যাল অটোপসি করার জন্য বেশ তৈরিই ছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেই দায়িত্বব্জায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের উপর।
আরও পড়ুন- ১লা জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বাড়ছে মহার্ঘ্য ভাতা! সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র
রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষা ক্রতা দেবাশিস ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই অটোপসির জন্য তিনটি বিশেষজ্ঞের দল গঠন করা হয়। এই চিকিৎসকের দল ব্রজ রায়ের দেহের অটোপসি করে ৪০টি ধাপে। তাঁর দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে চামড়া, ফুস্ফুস, কিডনি, ব্রেন, সবকিছুর আলাদা আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পর্যায়ক্রমে চলে এই প্রক্রিয়া। এরপর আজ, বুধবার এসে পৌঁছয় সেই অটোপসির রিপোর্ট।
এই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে, করোনা ভাইরাস দেহের মৃত ব্যক্তির কিডনি ও ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এও জানা গিয়েছে যে মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ায় না। কিন্তু মৃত্যুর আগে পর্যন্ত করোনা ভাইরাস দেহের কতটা ক্ষতি করে, তা জানার জন্যই এই পরীক্ষা করা হয়। ব্রজ রায়ের ৬টি অটোপসির রিপোর্ট এখনও আসা বাকী।
ব্রজ রায়ের মৃতদেহের এই অটোপসি করার পর আরও ৬টি পরিবার তাদের নিকট আত্মীয়ের মৃতদেহ স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দেন। বিজ্ঞানচর্চা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্যে করোনা ভাইরাসকে কীভাবে দ্রুত ঠেকানো যায়, এই ছিল এই ক্লিনিক্যাল অটোপসির লক্ষ্য।





