মানুষকে ‘উৎসবে’ ফেরানোর চেষ্টা মমতার! জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো কার্নিভালের প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য, হবে ‘লাইভ’ সম্প্রচারও

আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) তরুণী চিকিৎসককে খু’ন এবং ধর্ষ’ণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে আছে সারা বাংলা। একমাসের বেশী সময় পেরিয়ে গেলেও থেমে যায়নি আন্দোলন বরং প্রতিবাদের আওয়াজ হয়ে উঠেছে আরও তীক্ষ্ণ। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রতিটি প্রান্তের মানুষ এক হয়ে গেছে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ (justice for R G Kar) স্লোগানে। মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন মোমবাতি কিংবা মশাল হাতে। হচ্ছে রাত দখল। সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন কেন পরিণত হয়েছে গণআন্দোলনে।

বর্তমানে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিবাদ আন্দোলনে উত্তাল বৃষ্টি ভেজা শহর কলকাতা। ৩৬ দিন ধরে রোদ ঝড় বৃষ্টিতে আকাশের নিচে বসে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তিলোত্তমার বিচার চেয়ে পাঁচ দফা দাবীকে সামনে রেখে আলোচনা করতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও পৌঁছে যান জুনিয়র চিকিৎসকরা। আলোচনা শেষ পর্যন্ত হয়নি। বৃষ্টি ভিজে চোখের জলেই ফিরে গিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল। তবে বিচার এর দাবীতে এখনও রাস্তাতেই অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

এই আবহের মাঝেই ‘উৎসবে ফিরুন, পুজোয় ফিরুন’ মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিলেন আপামর জনতা। হয়েছিল চরম নিন্দা। প্রশ্ন উঠেছিল যে আন্দোলনের থেকে মানুষের মন ঘোরাতেই কি এরকম মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পুজো কার্নিভালের প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হল রাজ্যের তরফ থেকে।

হাতে আর সময় নেই বেশী। দুর্গাপুজো আসতে আর বাকি নেই বেশী দিন। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ চলছে সর্বত্রই। এরই মাঝে রেড রোডে পুজো কার্নিভালের প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য। রেড রোডের ওপর মঞ্চ তৈরির থেকে আলোর ব্যবস্থা থেকে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সবকিছুর জন্য দরপত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য।

আরও পড়ুনঃ অভিনয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ করেছেন আগেই! এবার তিলোত্তমার ন্যায় বিচারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে মুগ্ধ করলেন মানুষকে, বাস্তবেই ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছেন কিঞ্জল নন্দ!

আর জি করের এই আবহে এইরকম একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার প্রসঙ্গে পুর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানান, “কার্নিভাল সরকারি অনুষ্ঠান। কয়েকমাস আগেই এর সময় ধার্য হয়ে যায়। ফলত নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতেই হবে। সেই কারণেই আর জি কর আবহেই এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ”।

তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে পুজো কার্নিভাল। ২০২৩ সালে বাংলার দু্র্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর কার্নিভালের জাঁকজমক আরও বেড়েছে। এবছরও একইভাবে কার্নিভালের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। সেই মতোই শুরু হয়েছে কাজ”।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর