রাজ্যে কিছু এলাকায় করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে ঘোষণা করেছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় সংক্রমণ আটকাতে রাজ্য সম্প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শনিবার এই দুই দিন ধার্য করা হয়েছে লকডাউন এর জন্য এই সপ্তাহে। এদিকে পয়লা আগস্ট বখরি ইদের দিন শনিবার পড়েছে। তাহলে ওইদিন কি লক ডাউন পালন করা হবে?
পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী এবং কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিলেন ওইদিন কোন লকডাউন পালন হবে না রাজ্যে।
লকডাউন প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জানান, “কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান লকডাউনকে ভুল বুঝে তার বিরোধিতা করছে৷ পশ্চিমবঙ্গ ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য। আমাদের রাজ্য সরকার ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন ধর্মের ভাবাবেগকে আঘাত দিতে বিশ্বাসী নন। তাই যেমন হিন্দুদের পূজা পার্বণে লকডাউন হবে না তেমনই মুসলমান ধর্মের মানুষের অনুষ্ঠানেও লকডাউন হবে না। একইভাবে খ্রীষ্টানদের জন্যও তাঁদের উৎসবের দিন লকডাউন করা হবে না রাজ্যে। আমরা সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই কোনও ধর্মের মানুষের ভাবাবেগকে আঘাত করে রাজ্য সরকার লকডাউন করবে না।”
যদিও তার এই ঘোষণার ফলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল সমালোচনা। রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু তোষণ করছে বলে অনেকের অভিযোগ। কলকাতায় তথা গোটা রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার অত্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী। দৈনিক প্রায় ২০০০ জন করে মানুষ গোটা রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। সেখানে উৎসবের কি খুব দরকার ছিল? সবথেকে বড় কথা যেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি নিজে থেকে চাইছে তাঁদের উৎসব বন্ধ রাখতে সেখানে রাজ্য সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উৎসব করার আয়োজন কেন নিচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট ব্যাংক ভর্তি করাই কি এরকম অবিবেচক সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য? প্রশ্ন করছেন সাধারণ মানুষ।






