West Bengal assembly election 2026 : একসঙ্গে ৩৪০ নাম উধাও! একই বুথে BLO-সহ বিচারাধীন ভোটারদের নাম কাটা, তবে কি আর নিরাপদ নয় ভোটার তালিকা? পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত? প্রশ্ন উঠছে জনমানষে!

ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ঠিক তেমনই এক ঘটনার জেরে এখন চর্চা তুঙ্গে। তালিকায় নাম থাকা মানেই কি ভোটাধিকার নিশ্চিত? নাকি শেষ মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।

প্রথমে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় কিছু নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সেই তালিকায় বসিরহাট মহকুমা জুড়ে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা অনুযায়ী শুধু এই মহকুমা থেকেই ১৬ হাজারের বেশি নাম বাদ যায় বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়ায়, রাস্তায় বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়। তবে তখনও অনেকেই আশায় ছিলেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় হয়তো সমস্যার সমাধান হবে।

কিন্তু ২৩ মার্চ গভীর রাতে প্রকাশিত নতুন তালিকা যেন সেই আশায় জল ঢেলে দিল। বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বড় গোবরা এলাকার ৫ নম্বর বুথে মোট ৯৫২ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪০ জনের নাম আগে বিচারাধীন ছিল। নতুন তালিকায় দেখা গেল এই ৩৪০ জনের প্রত্যেকের নামই সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২০২ জন পুরুষ ও ১৩৮ জন মহিলা রয়েছেন। আরও চমকপ্রদ বিষয়, সেই বুথের বিএলও শফিউল আলমের নামও তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের পরিবারের পুরনো নথি রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে শফিউল আলম জানান, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল এবং এখনও রয়েছে। শুধু তিনিই নন, তাঁর দুই ভাই রবিউল আলম ও তরিকুল আলমের নামও বাদ পড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে যদি পূর্বপুরুষের নাম তালিকায় থাকে, তাহলে হঠাৎ করে বর্তমান প্রজন্মের নাম বাদ পড়ল কীভাবে? এই অসঙ্গতি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

আরও পড়ুনঃ All Party Meeting: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আগু*নে বাড়ছে দুশ্চি*ন্তা! হঠাৎ সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক, বড় কোনও সিদ্ধান্তের পথে কি এগোচ্ছে কেন্দ্র, না কি সামনে আরও কঠিন সময়ের ইঙ্গিত?

এই ঘটনায় স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়াও তীব্র। বসিরহাট ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৌমেন মণ্ডল অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চক্রান্ত ও প্রশাসনিক প্রভাবেই সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা নথি যাচাই করেছেন, তাঁরাই এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্য জুড়ে এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং এখনও বহু নাম বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, আর সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles