সামনেই পুরসভার নির্বাচন। এই ভোট আবহে এবার ফের উত্তপ্ত হল কাঁথি। বেশ হাইভোল্টেজ কেন্দ্র এটি। প্রায়ই শাসক ও বিরোধীর মধ্যে দ্বন্দ্বের খবর শোনা যায় এই কেন্দ্র থেকে। পুরভোটের আগে বেশ উত্তেজনা ছড়াল এই এলাকায়।
জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার বিকেলে কাঁথি সুপার মার্কেট এলাকায় ভোটের প্রচার করছিলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরির ছেলে সুপ্রকাশ গিরি। সেই সময় সেখানে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষীদের। এই ঘটনায় দুই শিবিরের কর্মীরাই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। আহত হন প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরিও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এদিন প্রথম থেকেই এই এলাকায় প্রচার সারছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। সেই সময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকে। এরপরই আক্রমণ করে শুভেন্দুর দেহরক্ষীরা। তৃণমূল নেতাদের করা হয় মারধর।
বেশ কিছুক্ষণ চলে এই খণ্ডযুদ্ধ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকরাই আহত হন। প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরিকে বেশ আহত অবস্থায় কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর বুকে বেশ আঘাত লেগেছে বলে খবর। ওই হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এই গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মন্ত্রী অখিল গিরি। কাঁথি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরি যখন প্রচার করছিল শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ওই দিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তৃণমূলের কর্মীরা তখন স্লোগান দিচ্ছিল। শুভেন্দু নিজেই সুপ্রকাশকে দেখিয়ে দেন। তারপর তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে মারধর ধরে সুপ্রকাশকে। বন্দুক দিয়ে মারধর করা হয়। ধাক্কাধাক্কিতে সুপ্রকাশ রাস্তায় পড়ে গেলে গলা টিপে ধরা হয় তার। কয়েকজন কর্মী বাঁচাতে তাঁদেরকেও গেলে মারা হয়”।
যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়। পাল্টা অভিযোগ এনে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি সুদাম পণ্ডিত বলেন যে শুভেন্দু অধিকারী এলাকার একটি মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁকে তৃণমূল গুণ্ডারা আক্রমণ করে। তাঁর দাবী, “প্রচারে বেরিয়ে এলাকার সব মানুষের কাছেই যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবী তৃণমূলের গুন্ডারা আক্রমণ করছেন বার বার”।





