সংখ্যালঘু এলাকার EVM আগে গণনা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক! ভোট গণনার আগেই TMC–BJP মুখোমুখি, কার কৌশলে বদলাবে ফলের গতি?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে এখন তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামীকালই ভোট গণনা শুরু হতে চলেছে, আর তার আগেই ইভিএম গণনার পদ্ধতি ও কৌশল নিয়ে শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ইভিএম আগে গণনা করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলছে, যা ভোট গণনার আগেই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা হবে ৭৭টি গণনা কেন্দ্রে। তবে একটি আসন, ফলকা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ও গণনা আপাতত স্থগিত রয়েছে এবং পরবর্তী তারিখে তা সম্পন্ন করা হবে। বাকি আসনগুলির ফলাফল আগামীকালই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গণনা কেন্দ্রগুলিতে ইতিমধ্যেই ইভিএম মেশিনগুলো স্ট্রংরুমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর কড়া নজরদারিতে চলছে পুরো প্রক্রিয়া। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ গণনার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘট! ২০ মে, বন্ধ সব ওষুধের দোকান! উদ্বেগ বাড়ছে শহরজুড়ে!

সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ভোট গণনার সময় একটি নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ইভিএমগুলো আগে গণনার জন্য আলাদা ভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রথম দিকেই তৃণমূল প্রার্থীরা এগিয়ে থাকতে পারেন। দলের একটি অংশের মতে, দক্ষিণবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রথম রাউন্ডে লিড দেখানো হলে তা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তৃণমূল, তবে দলীয় সূত্রে এমন কৌশলের কথা শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হচ্ছে, গণনা কেন্দ্রে বিরোধীদের মানসিকভাবে চাপে ফেলতেই এই পরিকল্পনা করা হতে পারে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই কৌশলের অভিযোগকে ঘিরে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট গণনা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী হবে এবং সেখানে কোনও ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ নেই। বিজেপির দাবি, তারা গণনা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং তাদের এজেন্টদের সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গণনার সময় কোনও অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে দলীয় কর্মীদের বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে তারা আশাবাদী এবং শেষ পর্যন্ত জনতার রায়ই প্রাধান্য পাবে।

সব মিলিয়ে ভোট গণনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণ গণনা সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এখন শুধু অপেক্ষা আগামীকালের, যখন ইভিএম খুলে জানা যাবে পশ্চিমবঙ্গের আগামী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক ভাগ্য কার হাতে যাচ্ছে।

আরও অন্যান্য খবর