বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কাজ হয়নি, এবার তৃণমূল শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তলব করতে পারে সৌগত রায়কে

বারবার তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে দলের তরফে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুখ খুলেছেন তিনি। এবার এই কারণে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তলব করতে পারে বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়কে।

প্রসঙ্গত, বগটুই থেকে হাঁসখালি, নানা ইস্যু নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের চুপ থাকার অভিযোগ উঠেছে বারাবার। সমালোচনার ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শাসক দলের নেতা হয়েও সৌগত রায়ের মনে হয়েছিল যে এই রাজ্যে নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে মুখর হচ্ছেন না।

শুধু দেশের প্রেক্ষাপটে নয় বাংলার ইস্যু নিয়েও নাগরিক সমাজ যে নীরব, তা মেনে নিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ। ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল, জেএনইউ-তে মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্ক কিংবা হাইকোর্টে আইনজীবীদের বিক্ষোভ, সব কিছুর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ করা উচিত বলে মনে করেন সৌগত রায়।

এই নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে বাঙালি কেন প্রতিবাদ করতে ভুলে যাচ্ছে। সৌগতর কথায়, “রাজনীতি বাদ দিলেও অন্যায়টা অন্যায় এটা বলার দরকার আছে। না বলাটা বাংলার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। উনবিংশ শতাব্দীতে রামমোহন সতীদাহের বিরুদ্ধে, বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের পক্ষে যে আওয়াজ তুলেছিলেন, সেখান থেকে আজকের বাঙালি কোথায় ভাবতে হবে। নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মহল কোথায় হচ্ছে। আমি মনে করি হওয়া উচিত”।

এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি এক পুলিশের অনুষ্ঠানে পুলিশের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সৌগত রায়। তিনি বলেছিলেন, “মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে একটিও ধর্ষণ লজ্জার”। তাঁর এই স্পষ্টভাষায় প্রতিবাদ স্বভাবতই অস্বস্তিতে ফেলেছিল তৃণমূলকে। হাঁসখালি কাণ্ডে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ‘ছোট ঘটনা’, ‘প্রেগনেন্ট’, ‘লভ অ্যাফেয়ার্স’, এমন মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। আর এরপরই তাঁরই দলের দীর্ঘদিনের সৈনিক সৌগত মন্তব্য সেই বিতর্কে কার্যত ঘি ঢালে। এর জেরেই সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে দল কোনও পদক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles