তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের সহকারীদের নামে বিজেপি সমর্থককে মা’রধ’রের অভিযোগ, গ্রেফতার হলেন দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়! অভিষেককে ঘিরে বিমানবন্দর সং’ঘর্ষের নেপথ্যে কি লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় রহস্য?

কলকাতা বিমানবন্দরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এই ঘটনায় শনিবার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। বিমানবন্দর চত্বরে দুই রাজনৈতিক শিবিরের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বহু কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে বিজেপির কর্মীরাও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা যায়। অভিষেক বিমানবন্দরে পৌঁছনোর আগেই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতির রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিমানবন্দর চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে কয়েক জনকে চিহ্নিত করা হয়।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কলকাতা বিমানবন্দরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন সশস্ত্র ব্যক্তি বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত করেন যে, ঘটনাটির সমস্ত দিক হয়তো মূলধারার সংবাদমাধ্যমে যথাযথভাবে উঠে নাও আসতে পারে। সেই কারণেই তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে নিজেদের মতো করে ঘটনার মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: বিলাসিতা ছেড়ে গঙ্গার ঘাটে রাত কাটাচ্ছেন, জনপ্রিয় কৌতুক শিল্পী সুনীল গ্রোভার! অভাবের তাড়নায় এই হাল? ভাইরাল ভিডিও দেখে অবাক অনুরাগীরা! হঠাৎ কেন এমন পরিণতি?

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। দলের দাবি, তাঁকে ডিম ছোড়ার ছক কষা হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তৃণমূল কর্মীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তরফে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন এলাকায় এই ধরনের সংঘর্ষ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কে বা কারা প্রথম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তা নিয়েও এখন জোরদার অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে বিমানবন্দর কাণ্ডের পর রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে তিনি ২০ জন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক জন জনপ্রতিনিধি অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং সেই বিষয়েই সাংবিধানিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিষেকের এই মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতা বিমানবন্দর সংঘর্ষ, গ্রেফতারি এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন সকলের নজর আদালতের শুনানি ও পুলিশের পরবর্তী তদন্তের দিকে, কারণ এই ঘটনায় সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আরও অন্যান্য খবর