মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে বাংলার মানুষের র*ক্তও কি রেহাই পেল না? ৩০০ মিলিলিটারের বদলে নেওয়া হতো ৫০০ মিলিলিটার র*ক্ত! র*ক্তদান শিবিরে দেওয়া সেই রক্ত আদৌ কি পৌঁছত সাধারণ মানুষের কাজে? তৃণমূল সরকারের আমলে ‘র*ক্তচোষা’ চক্রের নেপথ্যে কারা?

রক্তদান জীবনদান, এই বিশ্বাসেই মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। কোনও দুর্ঘটনায় আহত মানুষ, অস্ত্রোপচারের রোগী, থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশু কিংবা মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে নিজের শরীরের রক্ত অন্যের জন্য উৎসর্গ করেন সাধারণ মানুষ। পাড়ার ক্লাব থেকে সামাজিক সংগঠন সারা বছরই বাংলায় আয়োজিত হয় অসংখ্য রক্তদান শিবির। রক্তদাতার বিশ্বাস থাকে, তাঁর দেওয়া রক্ত প্রয়োজনের সময়ে কোনও মানুষের জীবন বাঁচাবে। কিন্তু সেই মহৎ রক্তদান নিয়েই যদি ওঠে ব্যবসা, বেআইনি ভাবে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ এবং সেই রক্ত থেকে তৈরি প্লাজমা ভিনরাজ্যে বিক্রির অভিযোগ, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য দেওয়া রক্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় গেল?

এবার সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রক্ত ভাণ্ডারকে ঘিরে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে। কলকাতা, নদিয়া, দুর্গাপুর-সহ একাধিক জায়গার হাসপাতাল ও বেসরকারি রক্ত ভাণ্ডারে অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম অনুযায়ী যতটা রক্ত সংগ্রহ করার কথা, তার চেয়ে বেশি রক্ত নেওয়া হচ্ছিল। যে পাউচে প্রায় ৩০০ মিলিলিটার রক্ত রাখার কথা, সেখানে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত সংগ্রহের তথ্য সামনে এসেছে। আবার বেশি রক্ত সংগ্রহের জন্য দাতাদের উপহার বা আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হল, এই অতিরিক্ত সংগৃহীত রক্ত থেকে প্লাজমা ও অন্যান্য রক্ত উপাদান আলাদা করে ভিনরাজ্যে পাঠানো এবং বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রির অভিযোগ। তদন্তে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে রক্তের উপাদান যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই কয়েক কোটি টাকার রক্ত উপাদান ভিনরাজ্যে বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকার লোহিত রক্তকণিকা এবং প্রায় ৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার তাজা হিমায়িত প্লাজমা বিক্রির তথ্যও আলোচনায় এসেছে। তাহলে প্রশ্ন একটাই বাংলার মানুষ যে রক্ত জীবন বাঁচানোর আশায় দান করেছেন, সেই রক্ত কীভাবে কোটি টাকার বাণিজ্যের অংশ হয়ে গেল?

বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়েছে কারণ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক বেসরকারি রক্ত ভাণ্ডার। স্বাস্থ্য দফতরের পদক্ষেপে একাধিক রক্ত ভাণ্ডারের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নথিপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও রক্ত সংগ্রহ বা অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য প্রতিবেদন এবং ভবিষ্যতে পুলিশ, অপরাধ দমন শাখা বা অপরাধ তদন্ত দফতরের তদন্তের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। প্লাজমার মূল্যও সংশোধন করে প্রতি লিটার ৪,১১৭ টাকা থেকে ৭,০০০ টাকা করা হয়েছে বলে তথ্য সামনে এসেছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এতদিন ধরে যদি এমন অনিয়ম চলেই থাকে, তাহলে স্বাস্থ্য দফতর, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ দফতর এবং সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থাগুলির ভূমিকা কী ছিল?

আরও পড়ুনঃ একি কাণ্ড! মাত্র পাঁচ মাস যেতে না যেতেই বিয়ে ভাঙছে ‘গুড্ডি’ জুটির? রণজয় ও শ্যামৌপ্তিকে ঘিরে ডিভোর্সের জল্পনায় সরগরম টলিপাড়া, সামনে এলো কোন কারণ?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই রাজনৈতিক প্রশ্নও তীব্র হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের দান করা রক্তকে ঘিরে যদি সত্যিই বেআইনি বাণিজ্য হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় শুধু কয়েকটি বেসরকারি রক্ত ভাণ্ডারের ঘাড়ে চাপিয়ে কি তদন্ত শেষ করা যাবে? মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে বাংলার মানুষের রক্তও কি শেষ পর্যন্ত রেহাই পেল না? তবে কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার আগে তদন্তের ফল এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষা জরুরি। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন রক্তদান শিবিরে দেওয়া সেই রক্তের প্রতিটি ইউনিটের হিসাব কোথায়? কতটা রোগীর কাজে লেগেছে, কতটা রক্তের উপাদানে পরিণত হয়েছে, আর কতটা ভিনরাজ্যে গিয়েছে? মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য দেওয়া রক্ত যদি সত্যিই কোটি টাকার কারবারে পরিণত হয়ে থাকে, তাহলে এর নেপথ্যে থাকা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কি হবে কঠোর তদন্ত এবং শাস্তি?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর