একটি চা বাগান থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা আজ অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা! এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনে পেয়েছেন সম্মান! দাদাগিরির মঞ্চে গীতা কর্মকারের জীবনসংগ্রাম শুনে আবেগপ্রবণ দেব, সবার সামনে জড়িয়ে ধরলেন জলপাইগুড়ির গর্বকে!

জলপাইগুড়ির গীতা কর্মকার আবারও রাজ্যের গর্ব হয়ে উঠেছেন। চলতি বছরের মে মাসে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে নার্সিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ পুরস্কার পাওয়ার পর এবার তাঁকে দেখা গেল জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে। সেখানে নিজের জীবনের সংগ্রাম ও মানুষের সেবার গল্প শোনাতে গিয়ে উপস্থিত সকলকে আবেগপ্রবণ করে তোলেন তিনি। তাঁর কথা শুনে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দেবও মঞ্চেই উঠে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।

অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পর থেকেই গীতা কর্মকারকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় কোনও লিখিত চিত্রনাট্য ছিল না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই তিনি স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছিলেন। অনুষ্ঠানের পুরো টিমের আন্তরিকতা এবং সহযোগিতায় তিনি খুবই মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান।

সবচেয়ে বেশি যেটা তাঁর মনে দাগ কেটেছে, তা হল দেবের ব্যবহার। গীতা কর্মকারের কথায়, জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েও দেবের মধ্যে কোনও অহংকার নেই। তিনি সকলের সঙ্গে অত্যন্ত সহজভাবে কথা বলেন এবং আন্তরিকভাবে মিশে যান। এমনকি শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর বোনের অনুরোধে সময় বের করে একসঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন দেব।

স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগান এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন গীতা কর্মকার। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। সেই সাধারণ জীবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মান গ্রহণ এবং এরপর টেলিভিশনের জনপ্রিয় মঞ্চে পৌঁছনো তাঁর কাছে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, মানুষের এই ভালোবাসাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আরও পড়ুনঃ মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে বাংলার মানুষের র*ক্তও কি রেহাই পেল না? ৩০০ মিলিলিটারের বদলে নেওয়া হতো ৫০০ মিলিলিটার র*ক্ত! র*ক্তদান শিবিরে দেওয়া সেই রক্ত আদৌ কি পৌঁছত সাধারণ মানুষের কাজে? তৃণমূল সরকারের আমলে ‘র*ক্তচোষা’ চক্রের নেপথ্যে কারা?

নিজের সাফল্যকে কখনও ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না গীতা কর্মকার। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনও স্বীকৃতির আশায় নয়, বরং সমাজের মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য ছিল সবসময়। জলপাইগুড়ির একটি চা বাগান থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা আজ অসংখ্য মানুষকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর