কাটমানি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘কাটমানি’ শব্দটা আজ আর অপরিচিত নয়। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের টাকা আটকে রাখা, নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়া বিল পাশ না করা—এমন অভিযোগ প্রায়শই ওঠে। বিরোধী দলগুলি একাধিকবার এ নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছে। কিন্তু এবার অভিযোগ এল তৃণমূল কংগ্রেসেরই অন্দরে! স্বয়ং শাসকদলের এক নেতা তাঁর দলেরই পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ তুললেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সরকারি প্রকল্পের কাজ হলে সাধারণ ঠিকাদারদের একটা স্বস্তি থাকে—তারা কাজ শেষ করলেই তাদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক সময়ই অন্যরকম হয়। কাজ শেষ হওয়ার পরেও ঠিকাদারদের অপেক্ষায় থাকতে হয় বিলের টাকার জন্য। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কমিশন বা কাটমানি দিলে তবেই কাজ হয়। যদিও এ নিয়ে সরকার একাধিকবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু তাতেও কি পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে?
এবার কাটমানির অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লকের সোনাথলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান সরকারি প্রকল্পের কাজের বিল মেটানোর জন্য ১২ শতাংশ কাটমানি দাবি করেছেন। আর এই অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ মুখোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর ভাই সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের হয়ে এক পেটি ঠিকাদার সুভাষ প্রামাণিক ওই পঞ্চায়েত এলাকায় সৌরশক্তি চালিত ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজ করেন। তিন লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৫ টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পের কাজ জানুয়ারির মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু বিলের টাকা পেতে গেলে কাটমানি দিতে হবে বলে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
এ নিয়ে অনিরুদ্ধ মুখোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “এরা নব্য তৃণমূল। ২০১১ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর এরা তৃণমূলে এসেছে। দিদির কথাও মানে না। আমি বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানিয়েছি, অভিযোগও করেছি।” অন্যদিকে, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো বিষয়টিকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হয়নি। যেখানে ৩৩০ ফুট মাটি খনন করার কথা ছিল, সেখানে মাত্র ১৬০ ফুট খনন করা হয়েছে। তাই বিল আটকানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
আরও পড়ুনঃ “প্রধান বিচারপতি এটা করতে পারেন না!” হাইকোর্টে নজিরবিহীন তোলপাড়, রাজ্যের দাবিতে বিতর্ক!
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিজেপি সুযোগ হাতছাড়া না করে কটাক্ষ করেছে। দলের জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, তৃণমূল মানেই কাটমানির দল। আজ তাঁদের দলের নেতারাই সেটা বলছেন! তবে এটা স্বচ্ছতার জন্য নয়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এমন হচ্ছে।” যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু’পক্ষকে ডেকে সমস্যা মেটানো হবে।” এখন দেখার, সত্যিই কী এই অভিযোগের মীমাংসা হয়, নাকি রাজনৈতিক তরজা আরও গতি পায়!






