হাওড়ার রাজনৈতিক পরিসরে অপ্রত্যাশিত টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ভোটের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অস্বাভাবিক পদত্যাগে জোর চাপানউতোর দেখা দিয়েছে। অনেকেই অবাক হয়ে যাচ্ছেন কেন হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি তৃণমূলের হাওড়া শাখায় নরমালি চলমান শৃঙ্খলার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ব্লক কমিটি ঘোষণা হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যেই। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা হঠাৎ করেই হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জানা গেছে, তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে পৌঁছে গেছে। এই পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে কিছু বিষয় নিয়ে প্রকাশ্য প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সমীর পাঁজা বলেন, “আমি আমতা-উলুবেড়িয়া, উত্তর এবং সাঁকরাইল কেন্দ্রের বর্তমান সভাপতিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলাম। দলের নেতৃত্ব এই নিয়ে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও বলেছিল। কিন্তু এরপর আর কোনও বৈঠক হয়নি। আমি একাধিকবার সুব্রত বক্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনে পাইনি।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, পদত্যাগের পেছনে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অভাব একটি বড় কারণ।

তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানে আমি তিনটি কেন্দ্রে সভাপতিদের পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম, সেই কেন্দ্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এর ফলে আমার মনে হয়েছে আমার বক্তব্য অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমি জেলা কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।” সমীর পাঁজার এই পদক্ষেপের ফলে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে এবং দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুনঃ Durga puja 2025 : “মহালয়া বন্ধ করতে হবে”—বাংলার আবেগে আঘাত! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ বাংলার মানুষ!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের আগে এমন পদত্যাগ হাওড়ার তৃণমূলের সংগঠনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাধারণ জনতা এবং দলের কর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী দিনে দলের প্রতিক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে সকলের নজর এখন হাওড়ায়।





