শরৎ আসতে না আসতেই বাংলার মানুষের হৃদয়ে যে আবেগটা সবচেয়ে গভীরভাবে ধরা দেয়, তা হল মহালয়া। ভোরবেলা আকাশ ভেদ করে ভেসে আসে চণ্ডীপাঠের ধ্বনি, সঙ্গে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর কণ্ঠস্বর—যেটা ছাড়া পুজোর সূচনা যেন কল্পনাই করা যায় না। বছরের পর বছর ধরে মহালয়ার সকাল বাঙালির কাছে এক বিশেষ রীতির মতো।
তবে এবারের মহালয়া যেন অন্য এক কারণে চর্চায় উঠে এল। সাধারণত মানুষ যেখানে পরিবার নিয়ে রেডিয়ো বা লাউডস্পিকারে মহালয়া শোনেন, সেখানেই দেখা গেল ভিন্ন ছবি। কিছু মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মহালয়া শুনছিলেন, পুজোর আমেজে মেতে উঠছিলেন। এমন সময় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
হঠাৎই এক মহিলা এগিয়ে এসে দাবি করলেন, মহালয়ার সম্প্রচার বন্ধ করতে হবে। তাঁর অভিযোগ—এই শব্দ তিনি সহ্য করতে পারছেন না। উপস্থিত সাধারণ মানুষ বিস্মিত হয়ে গেলেন। বহু বছর ধরে চলে আসা এক সাংস্কৃতিক পরম্পরা এভাবে বন্ধ করার কথা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকে।
একজন মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন—“আমরা কেমন বাংলায় বাস করছি, যেখানে মহালয়া বন্ধ করার দাবি উঠছে?” তাঁর সুরেই ধ্বনিত হল অনেকের অভিমান। কারণ, মহালয়া শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আবেগের পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi: ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতির পর রাহুল গান্ধী সরাসরি মোদীকে কটাক্ষ “দুর্বল প্রধানমন্ত্রী”!
ঘটনাটি ঘটেছে রামগড় এলাকায়। সেই সময়েই এলাকায় টহলরত পুলিশও উপস্থিত ছিল। তাঁরা গোটা পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও এই ঘটনার পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে—বাংলার প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা অনুষ্ঠানের আনন্দ যদি এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় কি এসে গেল? সেটাই এখন প্রশ্ন তুলছে বাঙালি জাতি!





