‘বিজেপি নেতারা ভোট চাইতে এলে তাদের গাছে বেঁধে রাখুন’, দলীয় কর্মীদের নিদান তৃণমূল নেতার, বিতর্ক কেষ্টর গড়ে

বছর পেরোলেই লোকসভা নির্বাচন। এর আগে নানান সভাতেই নানান রাজনৈতিক নেতারা একে অপরকে ধমকাতে-চমকাতে কসুর করছেন না। এমন আবহে এবার বিজেপি নেতাদের গাছে বেঁধে রাখার নিদান দিয়ে বেশ বিতর্কে জড়ালেন বীরভূমের বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের তৃণমূল নেতা বাবু দাস। এরপরই বেশ বিতর্ক ছড়াল অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে।

কী বলেছেন তৃণমূল নেতা?

বীরভূমের রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ছিল বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা বাবু দাস। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, “কয়েক মাস পরেই লোকসভা ভোটের দামামা বাজবে। তখন বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম আসবে ভোট চাইতে। আমি বুথ স্তরের সমস্ত কর্মীকে বলে যাচ্ছি, এই এলাকায় যদি কোনও বিজেপি নেতা ভোট চাইতে আসেন। তাহলে তাঁদের গাছে বেঁধে রাখবেন। গাছে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে জিজ্ঞাসা করবেন, আমার ১০০ দিনের কাজের টাকা কোথায়। বাংলাকে বঞ্চনা করছে, বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদী”।

নিজের এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “কীভাবে পশ্চিম বাংলাকে নরেন্দ্র মোদী ভাতে মারার চেষ্টা করছে। ২০২১ সালে ওরা বিধানসভায় জিততে পারেনি। তার পর ১০০ দিনের কাজের টাকা, গবির মানুষের পাওনা টাকা বন্ধ করে রেখেছে। তাই আমি বলেছি, যদি কোনও বিজেপি নেতাকে দেখতে পাও, তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন ১০০ দিনের কাজের টাকা কোথায় গেল”?

তবে নিজের এই মন্তব্যকে কোনওভাবেই হুমকি বলে মেনে নিচ্ছেন না তৃণমূল নেতা। তাঁর কথায়, “কে কী ভাবে নিচ্ছে আমি জানি না। বিজেপি যদি হুমকি হিসাবে নেয়, নেবে। এলাকায় ঢুকতে গেলে ১০০ দিন কাজের টাকা দিতে হবে। ভোট নেবে, আবার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দেবে, তা তো হয় না”।

কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?

তৃণমূল নেতার এহেন মন্তব্যের পর বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “ওটা তৃণমূলের কালচার। তৃণমূল খুব ভালো করে জানে কুকথা না বললে তারা ভোটে জিততে পারবে না। সে কারণে লোকসভা নির্বাচনের আগের থেকেই শুরু করে দিয়েছে এসব। এই ধরনের কথাবার্তা আমাদের দল সমর্থন করে না”।

আরও অন্যান্য খবর