সাধারণত রাস্তায় হাঁটাচলার সময় কারও সঙ্গে হাতাহাতি দেখতে পাওয়াটা বিরল। কিন্তু এই ঘটনায় তা-ও ঘটল প্রকাশ্যে। একজন মহিলাকে সপাটে চড় মারছেন এক ব্যক্তি, যাঁর পরিচয় সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কারণ, ওই ব্যক্তি একজন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য! কসবা কাণ্ডের রেশ না কাটতেই ফের একবার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে উঠল মহিলাদের উপর হামলার অভিযোগ। ভিডিও ছড়াতেই জনমনে প্রশ্ন—এটাই কি মহিলাদের জন্য সুরক্ষিত রাজ্য?
আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার কুঞ্জননগরে একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ ঘিরেই ঘটে এই ঘটনা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছিলেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। সেই কাজে বাধা দেওয়ার জন্য একদল মহিলা হাজির হন এলাকায়। আর তাতেই বেজায় চটে যান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য অসিত কর ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্জুন দাস। অভিযোগ, রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়েই তাঁরা এক বা একাধিক মহিলাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, এমনকি প্রকাশ্যেই গায়ে হাত তোলেন।
এই ঘটনার পর একটি ভিডিও সামনে আসে, যা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণ। পরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সেটি পোস্ট করেন। ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। ফালাকাটা থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি নেতৃত্ব। ফালাকাটা থানায় অসিত কর ও অর্জুন দাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে এফআইআর।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিধায়ক দীপক বর্মণ ও বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দীপকবাবু বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। মহিলাদের উপর হাত তোলা মানেই সভ্য সমাজে তৃণমূলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট।” শনিবার ওই এলাকায় প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তৃণমূলের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গে মা বোনেরা একদমই সুরক্ষিত নয়। প্রতিনিয়ত রাজ্যের প্রায় সর্বত্র মহিলারা তৃণমূল নেতা কর্মীদের হাতে অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এবারের ঘটনা আলিপুরদুয়ারে:-
আলিপুরদুয়ার জেলার কুঞ্জনগর জলদাপাড়া বনাঞ্চল এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এর প্রতিবাদে… pic.twitter.com/k92Zsgqx6B
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 4, 2025
আরও পড়ুনঃ West Bengal :নাবালিকাকে ধ*র্ষণ, সিবিআই মামলায় তৃণমূল ঘনিষ্ঠের ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন! একুশের হিংসার প্রথম রায় ঘোষণা!
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতির দাবি, বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল সরকারি কাজের। সেই কারণেই উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু শুনিনি। তবে বিজেপি নেতাদের উচিত উত্তরপ্রদেশে কী হচ্ছে, সেটাও পোস্ট করা।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।






