জমি নিয়ে পুলিশ ও তৃণমূলের মধ্যে বিবাদ, তুমুল অশান্তি। এর জেরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল ভরতপুর। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে ঘেরাও করা হয় ভরতপুর থানা। এর জেরে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন হুমায়ুন কবীর।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল, শনিবার দুপুরের দিকে। ভরতপুর থানার সামনে সরকারি জায়গা ঘিরে ধরে পুলিশ। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন পুলিশকে সেই জায়গা ঘিরতে বাধা দেয়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বচসা, অশান্তি।
সন্ধ্যের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভরতপুর বিধানসভার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর নেতৃত্বে থানার সামনে কান্দি-কাটোয়া রাজ্য সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলে। কান্দির এসডিপিও সাগর রানা জানান, “যে জায়গাটি নিয়ে বিতর্ক, তা সরকারের রেকর্ডে থানারী। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনায় বসেছি। খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হবে”।
বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে থানায় এই নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও লাভ হয়নি। থানার বাইরে বেরিয়ে এসে হুমায়ুন কবীর ভরতপুর থানার ওসি রাজু মুখোপাধ্যায়কে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে। তাঁর কথায়, “ওসি রাজু মুখোপাধ্যায় বিজেপির দালালি করছেন। আমরাও দেখব ওই জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হয় কী না। ওই জায়গা সরকারিভাবে পুলিশের নামে রেকর্ড থাকলেও তা একটি নালা। এছাড়াও পাঁচ বছর ধরে ওখানেই অস্থায়ী পার্টি অফিস কীভাবে ছিল তার উত্তর পুলিশকে দিতে হবে”।
এরপরই তৃণমূল কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। বেশ ধ্বস্তাধস্তি চলে তাদের মধ্যে। কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ওই এলাকা। এই ঘটনার জেরে যাতে আরও কোনও বিক্ষোভের ঘটনা না ঘটে, তাই ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
জানা যাচ্ছে, ওই সরকারি জায়গাটি তৃণমূল নেতারা নিজেদের দলীয় কার্যালয় তৈরি করার জন্য জবরদখল করে। কিন্তু অন্যদিকে পুলিশের দাবী, ওই জায়গাটি আসলে পুলিশের। এই ঘটনায় নিজেদের মধ্যে বেশ বচসায় জড়ান ভরতপুর থানার ওসি রাজু মুখোপাধ্যায় ও ভরতপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নজরুল ইসলাম। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ও তৃণমূল নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা।
এই ঘটনার জেরে ওই এলাকায় বেশ উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় কান্দির সিআই জয়ন্ত শর্মা ও কান্দির এসডিপিও সাগর রানার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করারা চেষ্টা করেন। তবে এই ঘটনার জেরে ওই এলাকা এখনও উত্তপ্ত। প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর তা ওঠে।





