মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান বিষয় নিয়ে সরব হন তিনি। নিজের নানান অভিযোগ, ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার একমাত্র পন্থা তাঁর কাছে এই সমাজমাধ্যম। যা বলেন স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন। সে নিজের দলের সমালোচনা করাই হোক বা সমাজের কোনও বিষয়, কোনও কিছু নিয়েই প্রতিবাদ করতে পিছপা হন না বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এবার বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন তিনি।
বাংলায় থেকেও বাংলা বলার কারণে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। কেন বাংলায় দাঁড়িয়ে হিন্দি বলার জন্য জোর করতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “আমি বাঙালি, গর্বিত বাঙালি । বাংলা আমার মাতৃভাষা। যে ভাষায় লিখে বাংলার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। আজকে সেই বাংলায় আমাকে আমাদেরকে বাংলায় কথা বলার জন্য বহিরাগতের হুমকি আর ধমকির সামনে পড়তে হচ্ছে। আজ বিধানসভায় সেই ভাষার পক্ষে খানিকক্ষণ চিৎকার করলাম। বাংলা ভাষা ঋণ যতটা পারি শোধ করার চেষ্টা করলাম। জয় বাংলা”।
তবে তৃণমূল বিধায়ক এও স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিন্দি ভাষা নিয়ে তাঁর কোনও অভিযোগ বা আক্রোশ নেই। তিনি নিজেও সেই ভাষা পছন্দ করেন। কিন্তু বাংলায় দাঁড়িয়ে হিন্দি বলতে বাধ্য করা বা হিন্দি না জানলে অপমানিত করা, সেই বিষয়টি কোনওভাবেই কাম্য নয় বলেই দাবী তাঁর।
আসলে সম্প্রতি কলকাতা মেট্রোতে ঘটে এক ঘটনা। সেই ঘটনায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক মহিলাকে অপর মহিলা যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ভারতে থাকেন, তাও হিন্দি জানেন না। আপনি বাংলাদেশে নেই যে বাংলা বলবেন। ভারতে আছেন, হিন্দি বলতে হবে”।
এর জবাবে অপর মহিলা বলেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গে থাকি, এটা আমার জন্মভূমি। বাংলা আমি বলবই। আমার রাজ্যে দাঁড়িয়ে বাংলা বলার জন্য আপনি আমাকে অপমান করতে পারেন না’। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ঘটনা নিয়ে বিস্তর চর্চা চলছে নানান মহলে। এবার এই বিষয়েই সরব হলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারীও।
আরও পড়ুনঃ চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবীতে কলকাতার রাস্তায় মিছিল সনাতনীদের, মিছিলে বাধা পুলিশের, ধ্বস্তাধস্তির জেরে ধুন্ধুমার, লাঠিচার্জ পুলিশের
তাঁর নিজের সঙ্গেও একবার এমন এক ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তৃণমূল বিধায়ক। বলেন, একবার বাংলাদেশ যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে এক কর্মী তাঁর সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলছিলেন। তা নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ তর্কাতর্কি হয়েছিল সেই সময়।






