তিনি ডক্টরেট, কিন্তু ডাক্তার তো নন। কিন্তু তবুও করোনার টিকা প্রাপকের তালিকায় সর্বপ্রথমেই তাঁর নাম উঠে এসেছে। এই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই বিতর্কেই নাম জড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর। এই খবর পাঁচকান হতেই পিছু হটলেন তৃণমূল বিধায়ক। চাপের মুখে পড়ে বলেই দিলেন যে তিনি টিকা নিচ্ছেন না।
দু’দিন আগেই টিকাকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে টিকাকরণ শুরু হলেই যেন রাজনৈতিক নেতারা টিকা পাওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে না পড়েন। সাধারণ জনগণের মতোই তাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সেই কথার কোনও আমল না দিয়েই টিকাপ্রাপকের তালিকায় প্রথম নাম উঠল তৃণমূল বিধায়কের।
আজ, শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে গণটিকাকরণ। ইতিমধ্যেই এর শুভ সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগেই বলা হয়েছিল যে সকলের আগে টিকা পাবেন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো প্রথম সারিতে থাকা করোনা যোদ্ধারা। সেই অনুযায়ী আলিপুরদুয়ারের কোন কোন চিকিৎসক টিকা পাবেন, সেই তালিকা প্রস্তুত করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেই তালিকাতেই প্রথম নাম তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর।

এই কথা সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। চূড়ান্ত অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয় বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে। আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, “দেশের আইন সকলের জন্য সমান। টিকাকরণের একটা নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকদের আগে টিকা পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের নিয়ম ভেঙে তৃণমূল বিধায়ককে আগে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরণের তুঘলকি কাণ্ড। এটা মানা যায় না”
জানা গিয়েছে, সৌরভ কোনওভাবেই করোনা যোদ্ধা নন। তিনি আলিপুরদুয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পেশায় তিনি উকিল। তাই শর্ত অনুযায়ী তাঁর কোনওভাবেই এখন টিকা পাওয়ার কথা নয়। এই বিষয়ে যুক্তি খাড়া করে সৌরভ বলেছেন, “আমি রোগী কল্যাণ সমিতি ও স্বাস্থ্য দফতরের কিছু দায়িত্বে আছি, তাই হয়ত আমার নাম তালিকায় ছিল। আমি আপাতত টিকা নিচ্ছি না”।






