আর জি করের নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের দাবীতে আন্দোলন করে নাকি জুনিয়র চিকিৎসকরা টাকা তুলছেন। এমন অভিযোগ এর আগে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ করেছেন। এই একই অভিযোগ আবার করেছে জুনিয়র চিকিৎসকদের নতুন সংগঠনও। এবার এই নিয়ে ফের একবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন নামের অন্য এক সংগঠন তৈরি করেছে। গতকাল, শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন তারা। সেই বৈঠক থেকেই তারা দাবী করেন, অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার, কিঞ্জল নন্দরা নির্যাতিতার বিচারের নামে ৪.৭৫ কোটি টাকা তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার পরই আর জি করে থ্রেট কালচারের বিষয়টিও সামনে আসে। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের আন্দোলনের কারণেই বসে তদন্ত কমিটি। আর এই থ্রেট কালচারের অভিযোগে ৫৩ জনকে সাসপেন্ড করা হয়। জুনিয়র চিকিৎসকদের নতুন সংগঠনের সদস্য শ্রীশ চক্রবর্তী এই সাসপেন্ড হওয়া চিকিৎসকদেরই অন্যতম।
শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে শ্রীশ চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন, বিচারের নামে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তাদের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল বলেছিলেন অনিকেত মাহাতো। আর তারাই নির্যাতিতার বিচারের নামে ৪.৭৫ কোটি টাকা তুলছেন। তারা কী নটোরিয়াস ক্রিমিনাল নয়, প্রহ্ন করেছিলেন তিনি।
তাদের এই দাবীর পরই ফের জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “একটা আন্দোলন থেকেই ৫ কোটি টাকা তুলে নিলেন। ক্ষমতায় এলে তো দেশ বিক্রি করে দেবেন”। তাঁর আরও প্রশ্ন, টাকা দিয়েই কী বিক্ষোভ-আন্দোলনে লোক আনা হত? টাকা দিয়েই বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট তৈরি করা হত?
আরও পড়ুনঃ বাংলায় পা অমিত শাহ্’র, রয়েছে দিনভরের ঠাসা কর্মসূচি, আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গে কখন দেখা? বড় খবর দিলেন দিলীপ ঘোষ!
তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই টাকা তোলার অভিযোগ আগেও করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবী করেছিলেন, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি টাকা রয়েছে। কীভাবে এই টাকা এল, কারা আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখতে এই টাকা ধালছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেন অনিকেত, কিঞ্জল, দেবাশিসরা। তাদের কথায়, গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ কোনও সংগঠন খুলে তাদের কথা বলতেই পারে। কী কারণে তারা এই সংগঠন খুলছে, সেটা বোঝা দরকার। কিঞ্জল এও বলেন, মানুষ বিচার করে দেখুক তারা কোন পক্ষে থাকবেন, বিচার-ন্যায়ের পক্ষে নাকি থ্রেট কালচারের পক্ষে!






