পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বড় ভাঙন শাসক শিবিরে! বিজেপিতে যোগ দিলেন রাণাঘাটের প্রাক্তন প্রধান-সহ ২০০ তৃণমূল কর্মী

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। এর আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। রাণাঘাটের এক নম্বর তারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটল বড় ভাঙন। গতকাল, শুক্রবার রাণাঘাটের একটি বাজারে এক কর্মীসভার আয়োজন করে বিজেপি (BJP)। আর এই কর্মীসভাতেই তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান বিপুল মণ্ডল-সহ (Bipul Mandal) ২০০ জন তৃণমূল কর্মী (TMC workers) যোগ দিলেন বিজেপিতে।।

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিপুল মণ্ডল। বলেন, “তৃণমূলে মানুষের জন্য কাজ করতে দেওয়া হয় না। উঁচু স্তরের নেতারা শুধু মাত্র বাধা দেন”। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই পদত্যাগ করেন বিপুল মণ্ডল।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছিল”। তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতিরও অভিযোগ তোলেন বিপুল মণ্ডল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং স্বজন পোষণের অভিযোগেও নিজের প্রাক্তন দলকে তোপ দাগেন বিপুল।

বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এদিন বিপুল মণ্ডল বলেন, “মোদীজিকে দেখেই আমরা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছি”।

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারও এদিন তৃণমূলকে কটাক্ষ শানান। তিনি বলেন, “তৃণমূল যদি পুলিস প্রশাসন এবং ক্রিমিনালকে কাজে না লাগায় তাহলে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের কোনও চিহ্নই পাওয়া যাবে না। মানুষ আর তৃণমূলকে ভোট দেবে না। শুধু নদিয়া নয়, সারা বাংলা জুড়েই এখন তৃণমূলের অবস্থা খুব খারাপ। মানুষ তৃণমূলকে বিশ্বাস করবে না”।

উল্লেখ্য, এমনিতে রাণাঘাটে বিজেপির ভিত বেশ শক্ত। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এখানে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। রাণাঘাট, কল্যাণী, গাংনাপুর, হরিণঘাটা, শান্তিপুরের মতো সাংগঠনিক এলাকা বিজেপির গড় নামেই পরিচিত। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি হয়, সেই সময়ও রাণাঘাট থেকে ভালো ফল করে বিজেপি।

আরও অন্যান্য খবর