তৃণমূল যা ভোটে জিতেছিল, তাতে একাই পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করতে পারত তারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্দল প্রার্থীদের দলে ফেরাল তৃণমূল। খোদ তৃণমূল সেকেন্ড-ইন-কমান্ড যেখানে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে দল থেকে বেরিয়ে গেলে তাদের যেন আর দলে না ফেরানো হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই নির্দল জয়ী প্রার্থীদের দলে ফেরাল তারকেশ্বরের নাইটা মাল পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হল গোষ্ঠীকোন্দল।
কী অভিযোগ উঠেছে?
রকেশ্বরের নাইটা মাল পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, শীর্ষ নেতৃত্বের কথা অমান্য করে নির্দল জয়ী প্রার্থীদের যোগদান করানো হয়েছে। তারকেশ্বর ব্লক সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় এমন অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, এই যোগদান দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, যার নেতৃত্বে এই যোগদান অর্থাৎ ওই পঞ্চায়েতের জয়ী তৃণমূল সদস্য তথা জেলা কমিটির সদস্য শেখ মনিরুল ইসলামের দাবী, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই নির্দলদের দলে যোগদান করানো হয়েছে। তারা বোর্ড গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করবেন।
কী বলেছিলেন অভিষেক?
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে টিকিট না পেয়ে অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে নির্দলে যোগ দিয়ে ভোটে লড়েছিলেন। তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় সফরের সময় অভিষেক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে যারা টিকিট না পেয়ে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাদের আর কখনও দলে ফেরানো হবে না।
তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, কেউ যদি তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে তারা জয়ী হলেও তাদের দলে ফেরানো যাবে না।
জানা যাচ্ছে, নাইটা মাল পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের তিনজনই তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তবে প্রার্থী হতে পারেননি। কিন্তু তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে নির্দল হিসেবে ভোটে লড়েন ও জিতেছিলেন। এবার তাদেরকেই দলে ফেরানো হল। আর খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।






