মুকুলেই বাজিমাত তৃণমূলের! বাংলায় মুকুলের হাত ধরেই মমতার দলের উত্থান, মেঘালয়েও আরেক মুকুলের জেরেই খাতা খুলল ঘাসফুল শিবিরের

মুকুল নামটা বোধ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বোপরি তৃণমূলের জন্য একটা ‘লাকি চার্ম’। একসময় মুকুল রায়ের হাত ধরেই বাংলায় তৃণমূলের বীজ বপন করেছিলেন মমতা। আর আজ অন্য এক মুকুলের জেরেই বাংলার বাইরেও অন্য এক রাজ্যে জমি শক্ত করার দিকে এক পা বাড়াল তৃণমূল।

এটা বলাই বাহুল্য, প্রায় এক দশক পর উত্তর-পূর্বের কোনও রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বেশ নজরকাড়াই ফল করেছে। এর আগে ২০১২ সালে মণিপুরে তৃণমূল ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আর এবার মেঘালয়ের বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে প্রায় ১৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে তৃণমূল। যা বেশ চোখে পড়ার মতোই।

দুটি জাতীয় দল বিজেপি ও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে মেঘালয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে তৃণমূল। মেঘালয়ে ভোট প্রচারে গিয়েও তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের একটা বড় অংশ বলেছিল যে মেঘালয়ের নির্বাচনে তারা বিজেপি ও কংগ্রেসের থেকে বেশি আসন পাবে। আর ঘটনাচক্রে তেমনটাই হয়েছে।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা স্থাপন করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের উত্থানের প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে গিয়েছেন মুকুল রায়। হ্যাঁ, মাঝে তাঁর ‘মতিভ্রম’ হয়ে গেরুয়া শিবিরের হাত ধরেছিলেন বটে। কিন্তু সেই ভ্রম ভাঙে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরই। মুকুল ফিরে আসেন তাঁর পুরনো দলে। একসময়ের তৃণমূলের ‘চাণক্য’ নামে পরিচিত মুকুলের তৃণমূলে অবদান যে অনস্বীকার্য, তা আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।

আর এবার তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক মুকুলের নাম। ২০২১ সালের অক্টোবরে মেঘালয়ের দু’বারের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন স্পিকার চার্লস পিংরোপের মতো প্রভাবশালী বিধায়ক-সহ মোট ১২ জন কংগ্রেস বিধায়ক। মেঘাল্যে তৃণমূলের এমন ফল করার নেপথ্যে যে মুকুল সাংমার অবদানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা তৃণমূলে অস্বীকার করতে পারে না।

বাংলায় হোক বা মেঘালয়ে, মুকুল নামের সঙ্গে যেন তৃণমূলের আলাদাই যোগ রয়েছে। বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল রায় সেভাবে সক্রিয় না থাকলেও তৃণমূলের প্রতি তাঁর আনুগত্য এখনও রয়েছে। আর এবার বাংলায় বাইরেও তৃণমূলের উত্থানে ধীরে ধীরে অংশ নিতে চলেছেন আরেক মুকুল। তাহলে কী এবার মেঘালয়ে তৃণমূলের নতুন চাণক্য এই মুকুল সাংমা হতে পারেন, এমন প্রশ্নও কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  

RELATED Articles