পুজো কমিটির দখলদারি নিয়ে হাতাহাতি! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর, অভিযুক্ত দলেরই কাউন্সিলর

TMC Worker Died after Lynching: পুজো কমিটির দখল আসলে কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল বচসা। সেই বচসা গিয়ে গড়ায় হাতাহাতিতে। আর এই মারধরের জেরে মৃত্যু হয়েছে এল তৃণমূল কর্মীর, এমনটাই অভিযোগ (TMC Worker Died after Lynching)। অভিযোগের কাঠগড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর। এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল গোটা এলাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুরের ওল্ড ক্যালকাটা রোডের সুকান্তপল্লী এলাকায়। মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম পার্থ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী সেখানকার ক্লাবের সদস্যা। গতকাল, রবিবার সন্ধ্যেবেলা ওই ক্লাবের দুর্গাপুজোর কমিটি গঠন নিয়ে একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকেই শুরু হয় ঝামেলা।

জানা গিয়েছে, এই পুজো কমিটির দখল নেওয়ার জন্য স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মৌসুমি মুখোপাধ্যায় তাঁর দলবল নিয়ে বৈঠকে হাজির হন। সেখানে এই নিয়ে প্রথমে বেশ বচসা শুরু হয়। এরপর বাঁধে হাতাহাতি। আটকে রাখা হয় সদস্যদের। এদিকে স্ত্রীকে ক্লাবে আটকে রাখা হয়েছে শুনে সেখানে যান পার্থ চৌধুরী। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর সঙ্গেও বাঁধে বচসা। দরজা বন্ধ করে পার্থকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও তৃণমূল কাউন্সিলর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন(TMC Worker Died after Lynching)

এই ঘটনায় মৃত্যু হয় তৃণমূল কর্মীর। কাউন্সিলরের দাবী, পার্থ ক্লাবের বৈঠকে ছিলেন না। এই বৈঠকের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনও যোগ নেই (TMC Worker Died after Lynching)। এদিকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে একটি সিসিতব ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে যাতে দেখা গিয়েছে, এক রিক্সা থেকে নেমে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন পার্থ। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পার্থর স্ত্রীর দাবী, কাউন্সিলরের লোকজনদের মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্বামীর। মারধরের জেরে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁকে ব্যারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন (TMC Worker Died after Lynching)। এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর মৌসুমি মুখোপাধ্যায়কেই দায়ী করা হয়েছে।   

TMC Worker Died after Lynching, TMC Councilor, allegation, TMC Worker, died, lynch, Barrackpore, Puja Committee

এই ঘটনা প্রসঙ্গে আগের পুজো কমিটির সভাপতি সঞ্চিতা কুমার বলেন, “তৃণমূল কাউন্সিলর মৌসুমী মুখোপাধ্যায় প্রথমে বলেছিলেন, পুজোয় তিনি থাকবেন না। তার পর এদিন যখন কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক শুরু হয়, সেসময় তাঁর স্বামী-সহ দলবল নিয়ে আসে। কমিটি গঠন নিয়ে যখন বৈঠক হচ্ছিল, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলে, যতক্ষণ না কমিটির তৈরি হবে কেউ বাইরে বেরতে পারবে না। সেই সময় বাইরে গণ্ডগোল বাঁধলে জানতে পারি, পার্থকে মারধর করা হচ্ছে। বেরতে চাইলে আমাকে, এমনকি পার্থর স্ত্রীকেও বেরতে দেয়নি। কমিটি দখল করবে বলেই কাউন্সিলর দলবল নিয়ে এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে” (TMC Worker Died after Lynching)

RELATED Articles