ক্ষমতার দাপটে কি চলছিল ‘যা খুশি তাই’? দুর্নী’তি থেকে মাছ চু’রি, দুই তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফ’তার হতেই তীব্র চর্চা রাজ্যজুড়ে!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে বিতর্ক, গ্রেফতারি এবং পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই আবহেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্যজন ধরা পড়েছেন মাছ চুরির অভিযোগে। পরপর এই ঘটনায় বিরোধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল দাসকে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয়দের দাবি, যাঁদের প্রকৃতপক্ষে সরকারি আবাসনের প্রয়োজন ছিল, তাঁদের অনেকেই অর্থ দিতে না পারায় সুবিধা পাননি। আবার বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন, টাকা দেওয়ার পরও তাঁরা প্রতিশ্রুত ঘর পাননি। শুধু আবাস প্রকল্প নয়, এলাকায় আরও কিছু অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। এই অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তাঁর গ্রেফতারির দাবি জোরালো হতে থাকে। অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার দেখায়।

অন্যদিকে শনিবার ভোরে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে এলাকার একটি মাছের ভেড়িতে গিয়ে মাছ তুলছিলেন। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন এবং কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই ভেড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছিল, তবে এবার হাতেনাতে ধরা পড়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক মহলে চাপ বাড়ছে। নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে অসন্তোষের ছবি সামনে এসেছে। বহু জায়গায় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে হুগলির চন্দননগরে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুনঃ “শুধু ব্যক্তিগত ক’ষ্ট নয়, এর পিছনে রাজনীতির কালো ছায়াও আছে…” অনীক দত্তর মৃ’ত্যুতে বি’স্ফোরক জিতু কমল! পূর্বতন থেকে বর্তমান সরকার, একেবারে ধুয়ে দিলেন অভিনেতা!

এদিকে সম্প্রতি দমদমের এক কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাটি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বসিরহাট ও সোনারপুরে দুই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি শাসকদলের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক বিতর্ক ও আইনি জটিলতা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর