“শুধু ব্যক্তিগত ক’ষ্ট নয়, এর পিছনে রাজনীতির কালো ছায়াও আছে…” অনীক দত্তর মৃ’ত্যুতে বি’স্ফোরক জিতু কমল! পূর্বতন থেকে বর্তমান সরকার, একেবারে ধুয়ে দিলেন অভিনেতা!

টলিউডে এখনও কাটেনি পরিচালক অনীক দত্তর মৃত্যুর শোক। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে বুধবার সম্পন্ন হয়েছে তাঁর শেষকৃত্য। আর সেই দিনই সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগ ভেঙে পড়লেন অভিনেতা জিতু কমল। তিনি জানান, ২৯ তারিখ যেন বারবার তাঁর জীবনে দুঃখের স্মৃতি নিয়ে আসছে। কয়েক মাস আগেই এই দিনেই হারিয়েছিলেন রাহুলকে, আর এবার চলে গেলেন ‘অপরাজিত’-এর পরিচালক অনীক দত্ত। জিতুর কথায়, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে অনীক আর নেই। পরিচালককে শেষবার দেখতে গেলেও তিনি নাকি সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারেননি। কয়েক দিন আগেই এই প্রসঙ্গে মন্তব্য না করার জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন অভিনেতা। তবে শেষ পর্যন্ত আবেগ সামলাতে না পেরে মুখ খুললেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সামনে জিতু বলেন, “আমি মানুষটাকে আমার কোনও কাজ হলেই ফোন করতাম। কী বলব আমি? আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।” তাঁর গলায় তখন স্পষ্ট কষ্টের ছাপ। অভিনেতার দাবি, অনীক দত্তর মৃত্যু শুধুমাত্র ব্যক্তিগত যন্ত্রণা বা মানসিক সমস্যার ফল নয়। বরং এর পিছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপও কাজ করেছে। জিতুর কথায়, “একটা মানুষ কেবল শুধু মানসিক ব্যধির কারণে চলে গেলেন এমনটা না। এটা আমার কাছে রাজনীতির একটা কালো অধ্যায়।” এই মন্তব্যের পর থেকেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিউড এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে। বিশেষ করে ‘অপরাজিত’ ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও আবার সামনে উঠে এসেছে।

জিতু কমল অভিযোগ করেন, অনীক দত্তর অন্যতম জনপ্রিয় ছবি ‘অপরাজিত’ নন্দনে দেখানোর ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েছিল। তাঁর দাবি, শুধু ছবির প্রদর্শন নয়, পরিচালককেও নন্দন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অভিনেতার কথায়, এসব ঘটনা অনীক দত্তকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “পূর্বতন সরকার, মানসিকভাবে তো তাঁকে ভেঙে দিয়েছে। নন্দনে ছবি চলতে না দেওয়া, মানুষের কাছে রটিয়ে দেওয়া তার ছবি রিলিজ করতে অসুবিধা হবে। এগুলো তো হয়েছে।” শুধু অনীক নন, সেই সময়ের পরিস্থিতির কারণে নিজের কাজের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হয়েছিল বলে জানান জিতু। তাঁর বক্তব্য, “যে কারণের জন্য আমিও ছবি ছেড়ে টিভির কাজ করলাম।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

আরও পড়ুন: শ্যামৌপ্তিকে দেখেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম! ভক্তের আবদারে শেষে কী করতে বাধ্য হলেন নায়িকা?

অভিনেতার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এক ধরনের চাপা অস্বস্তি কাজ করছিল। অনেকেই মুখ খুলতে না পারলেও অনীক দত্ত সেই পরিবেশে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে বাধা, গুজব এবং রাজনৈতিক বিভাজন তাঁকে হতাশ করেছিল বলে মনে করছেন জিতু। সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়েও বারবার আবেগে গলা কেঁপে উঠছিল অভিনেতার। তিনি জানান, অনীক দত্ত তাঁর কাছে শুধু পরিচালক ছিলেন না, একজন কাছের মানুষও ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে এত প্রশ্ন উঠলেও এখনও পুরো বিষয়টা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। একই সঙ্গে অনীকের কাজ এবং অবদান নতুন করে স্মরণ করছেন টলিউডের বহু শিল্পী।

তবে এই আবেগের মাঝেও বর্তমান সরকারের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন জিতু কমল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবং অগ্নিমিত্রা দত্তকে তিনি মেল ও মেসেজ করেছেন। অভিনেতার অনুরোধ, অন্তত একবার যেন ‘অপরাজিত’ নন্দনে দেখানো হয়। জিতুর কথায়, “আমি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, অগ্নিমিত্রা দির কাছে মেইল করেছি, মেসেজ করেছি, একবার যেন ছবিটা নন্দনে দেখানো হয়। হয়তো তার আত্মা শান্তি পাবে। অন্তত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে একদিন চলুক। হয়তো ক্ষণিকের জন্য এটা হলেও উনি শান্তি পাবেন। দেখা যাক!” তাঁর এই আবেগঘন আবেদন ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনীক দত্তর মৃত্যু যেমন শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে, তেমনই তাঁর কাজ ও জীবনের নানা অজানা অধ্যায়ও সামনে এনে দিয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর