বগটুই ঘটনার আঁচ এখনও দমেনি। এরই মধ্যে সেই একই ধরণের ঘটনার সাক্ষী থাকল নন্দীগ্রাম। দুই মহিলাকে বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, বাড়ি ভাঙচুর করার পর ঢালা হয় কেরোসিন। পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন পরিকল্পনা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। এই ঘটনা যেন বগটুইয়ের ঘটনাকে উস্কে দেয়। অভিযোগ, গ্রাম্য বিবাদের জেরে এই খুনের চেষ্টা। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল-বিজেপি একে অপরকে তীর বেঁধাচ্ছে এই ঘটনায়। এই ঘটনায় সরব হয়েছে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম থানার উত্তর কেন্দামারি গ্রামের ভীমচরণ দাসের সঙ্গে গ্রাম কমিটির জমি নিয়ে বিবাদ ছিল। সম্প্রতি, ভীমচরণের শরীর অসুস্থ হওয়ায় তাঁর ছেলে তাঁকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য অন্য রাজ্যে গিয়েছেন। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে গত রবিবার ভীমচরণের বাড়িতে চড়াও হয় গ্রামের কিছু মাতব্বররা।
সেই সময় বাড়িতে ছিলেন দুই মহিলা। অভিযোগ, বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি মাহিলদের গালিগালাজ করা হয়। এরপরই নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ জানান ওই দুই মহিলা। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই মাতব্বরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কিন্তু গত মঙ্গলবার হলদিয়া আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায় দুই অভিযুক্ত। এরপরই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে তারা। সেদিন রাতেই ফের চড়াও হয় ভীমচরণের বাড়িতে। ফের ভাঙচুর শুরু করে তারা। এরপর বাড়িতে ঢেলে দেয় কেরোসিন। প্রাণে মারার জন্যই এই ঘটনা এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।
বাড়িতে থাকা মহিলারা কোনওমতে ঘটনাটি জানায় নন্দীগ্রাম পুলিশে। খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে হাজির হয় পুলিশ। আগুন লাগার আগেই দুই মহিলাকে রক্ষা করা হয়। পুলিশের খবর পেয়েই সেখান থেকে পালায় দুই মাতব্বর। এরপর গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাতব্বরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ তাদের হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি নজর রেখেছি। পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে। আমি আইন মানা লোক। পুলিশ ফেল করলে আমি টেকআপ করব। কী ঘটনা ঘটেছে সবই জানি। তৃণমূলের গুণ্ডারা, যাদের সিবিআই খুঁজছে বা ভিতরে রয়েছে সব এই প্রজাতির প্রাণী”।
এদিকে, ওই এলাকার ব্লক তৃণমূল সভাপতি স্বদেশ দাস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাঁর কথায় গ্রাম্য বিবাদের জেরে এই ঘটনা। শুভেন্দুর অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ তিনি।





