আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও (International Mother Language Day) বিতর্কে জড়াল বিশ্বভারতী (Viswa Bharati)। আজ, মঙ্গলবার ভাষাদিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী (Bidyut Chakrabortyi) বলেন, “বিশ্বভারতীতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে, খতম করতে হবে”।
এদিন শহিদদের প্রকৃত সম্মান জানানোর কথা বলে তিনি বলেন যে শুধুমাত্র ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, ভাষা শহিদরা সেদিন নিজেদের ভাষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। তাই অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি করা যায়, তবেই ভাষা শহিদদের যথাযথ সম্মান করা যাবে বলে মত উপাচার্যের। তবে তাঁর এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে যে তিনি ঠিক কোন ‘অশুভ শক্তি’র কথা বলতে চাইলেন!
মঙ্গলবার, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই নানা অনুষ্ঠান চলছে বিশ্বভারতীতে। গানে-আলপনায় স্মরণে উদভাষিত ওপার বাংলার শহিদের আমরণ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র সেই সুরেই রক্তিম আলপনায় সেজে ওঠে শান্তিনিকেতন। গোটা বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বভারতীতেও পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এদিন বিশ্বভারতীর এপার বাংলা ওপার বাংলার পড়ুয়ারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পদযাত্রায়, গানে, স্মরণে মিলিত হয়। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ পূরবী গেটের সামনে থেকে একটি পদযাত্রায় বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, আধিকারিক, অধ্যাপক, অধ্যাপিকারাও সামিল পদযাত্রায়। বাংলাদেশ ভবনে এসে বৈতালিক শেষ হয়। বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবনে এসে শেষ হয় পদযাত্রা। এরপর বাংলাদেশ ভবনে তৈরি হওয়া শহিদবেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের যেন এক বিতর্ক তৈরি করলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। তিনি বলেন, “বিশ্বভারতীতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, খতম করতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই আসল কাজ। অনেকে হয়ত ভাবেন, অন্যদের সমস্যা, আমাদের সমস্যা নয়। কিন্তু মনে রাখবেন, একদিন অন্যের সমস্যাই আমাদেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই অন্য়ায়ের প্রতিবাদ করতেই হবে। আর তা করলেই আমরা ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, জব্বারদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা রাখতে পারব”।
বলে রাখি, বিগত কয়েক বছর ধরেই নানান ঘটনার কারণে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি। বারবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতেও জড়িয়েছেন উপাচার্য। আর এবার মাতৃভাষা দিবসেও তৈরি হল বিতর্ক।






