‘১০০০ টাকা চাই না, আমাদের স্বামীরা খেটে খাওয়াতে পারে, শাহজাহান-অজিতের গ্রেফতার চাই’, ফুঁসছে সন্দেশখালি, অন্যদিকে কীর্তন করছে তৃণমূল

গতকাল, শনিবার উত্তপ্ত হয়েছিল সন্দেশখালির বেড়মজুর। শনিবারের পর এবার রবিবারও ফের উত্তপ্ত ওই এলাকা। হাতে ঝাঁটা, লাঠি নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন সেখানকার মহিলারা। একদিকে যখন প্রতিবাদে গলা ফাটাচ্ছেন বেড়মজুরের মহিলারা, কান্নায় ফেটে পড়ছেন তারা, তখনই আবার অন্য এক মেজাজেই দেখা গেল সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিককে। সেখানেই কীর্তন দলের সঙ্গে খোল নিয়ে নাচতে দেখা গেল তাঁকে।

গতকাল, শনিবার সন্দেশখালি গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক ও সুজিত বসু। এদিন বিকেলে সেখানকার মহিলাদের অভিযোগ শুনতে বসেন তিনি। সেই সময় নিজেদের সমস্ত ক্ষোভ উগড়ে দেন মহিলারা। সেই সময়ই এক মহিলার প্রশ্নে একটি বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, ওই মহিলাকে কেউ শাহজাহানের নাম বলতে শিখিয়ে দিয়েছে।

এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। শেখ শাহজাহান, সিরাজ ডাক্তার, অজিত মাইতিদের গ্রেফতারির দাবী তোলেন তারা। গতকালের পর আজ, রবিবারও উত্তপ্ত সন্দেশখালির বেড়মজুরের পরিস্থিতি। এদিন পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পার্থ ভৌমিককে দেখা গেল হাতে খোল নিয়ে কীর্তন দলের সঙ্গে নাচতে।

পার্থ ভৌমিকের কথায়, “মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ প্রশমিত হচ্ছে। অন্যান্য অনেক বিষয়ে অভিযোগ আছে। কিন্তু, মেয়েদের উপর পাশবিক অত্যাচারের যে অভিযোগ হাইলাইট করে দেখানো হচ্ছিল সেটা যে সর্বৈব মিথ্যা তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। জমি যদি কারও গিয়ে থাকে তাহলে তাঁরা ফেরত পাবেন”।

এদিন মন্ত্রীর কথা বলতেই ঝাঁটা হাতে গর্জে ওঠেন এক মহিলা। বলেন, “এত অভিযোগ আছে যে বলে পুরোতে পারব না। এই ঝাঁটা দিয়েই সব আবর্জনা ঝেঁটিয়ে বিদায় করব। আমাদের বেলায় আইন, আর ওদের বেলায় কোনও আইন থাকে না। ও মা-বোনদের নিয়ে ইচ্ছামতো খেলা করে। আনন্দ উপভোগ করে। কোনও মন্ত্রী আমাদের দরকার নেই। মন্ত্রী তো বলেছে কোনও ঝামেলা নেই। উনি কী ঘুমাচ্ছিলেন”?

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী সুজিত বসুর দাবী, “যারা এসব করছে তারা তাদের স্বার্থ দেখছে। পলিটিক্সটা জিইয়ে রাখতে চাইছে। ওরা বুঝতে পারছে বেশিদিন এই আন্দোলন আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী যতদিন না আসছেন ততদিন আন্দোলনটা জিইয়ে রাখতে চাইছে। কিছু মানুষকে কিছু লোক করাচ্ছে। কারা করছে আমরা বুঝতে পারছি। আমি বেড়মজুরে দাঁড়িয়ে সবটা দেখলাম”।

এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে এক মহিলা বলেন, “শেখ শাহজাহান, সিরাজ ডাক্তার, অজিত মাইতির গ্রেফতারি চাই। আমাদের চাই না ১০০০ টাকা। আমাদের স্বামীরা খেটে খাওয়াতে পারে। কেন পুলিশ আমাদের বাড়ির ছেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে”?

আরও অন্যান্য খবর