মুখে কিছু না বললেও, কিন্তু চোখে লেখা থাকে আতঙ্ক। সন্ধে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা জানলা আটকে ঘরে ঢুকে পড়েন এখানকার মহিলারা। আলো কমিয়ে, শব্দ না করে কেটে যায় রাত। বাইরের আওয়াজে বুক ধড়ফড় করে ওঠে—কে জানে আবার কিছু ঘটল কি না! বাড়ির পুরুষরা বাইরে বেরোলেই বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে। এমনই এক ছায়াঘেরা জীবন এখন মুর্শিদাবাদের বহু গ্রামের মহিলাদের।
সাধারণত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য মানুষ লাইন দেয়। এখানে চিত্র ঠিক উল্টো। তাঁরা টাকা বা সাহায্য নয়, চায় নিরাপত্তা। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লাগবে না, কিচ্ছু চাই না, শুধু নিরাপদে থাকতে দাও’—এই স্লোগানে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন মহিলারা। কাঁদছেন, গলা ফাটাচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের চাহিদা একটাই—নিরাপত্তা। প্রশ্ন জাগে, এমন কী ঘটেছে যে সরকারি সাহায্যও এখন তাদের কাছে মূল্যহীন?
ঘটনার সূত্রপাত ওয়াকফ আইন নিয়ে অশান্তি থেকে। সুতি, জঙ্গিপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দোকানপাট লুট, বাড়িতে আগুন, রাস্তায় গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পুলিশের টহল থাকলেও মহিলাদের মনে শান্তি নেই। দিনের আলো ফুরোলেই শুরু হয় অজানা আশঙ্কা। এই অবস্থায় তাঁরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে বলেন—সরকারি প্রকল্প নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা চাই।
এই পরিস্থিতির জেরে শনিবার এলাকা পরিদর্শনে আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ও জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সামনে কান্না থামাতে পারেননি গ্রামবাসীরা। এক বৃদ্ধা বলেন, “আমাদের ঘুম আসছে না, খাওয়া যাচ্ছে না। এমন ভয়ে আছি, যেন কোনও মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যাবে।” আরেকজন বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না পেলে বাঁচব, কিন্তু নিরাপত্তা না থাকলে কিছুতেই বাঁচব না।” তাঁদের দাবি, এলাকায় স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প বসানো হোক।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমেরিকার সতর্কতা ! বাংলাদেশ ভাগের গুজবের মাঝে বিশ্ব কি প্রস্তুত?
এই পরিস্থিতি শুধু একটি জেলার নয়, গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক সচেতনতার প্রশ্ন তোলে। সরকার যেখানে জনমুখী প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দিতে ব্যস্ত, সেখানে বাস্তব চিত্রে উঠে এল—মানুষ প্রকল্প নয়, আগে নিরাপদ জীবন চায়। প্রশাসনের কাছে মহিলাদের আর্তি স্পষ্ট—এই বার যেন কথার আশ্বাস নয়, সত্যিই এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। না হলে আতঙ্কের আঁধারে ঢাকা পড়ে যাবে আরও অনেক নিরীহ মানুষের জীবন।





