মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের মতো রাজ্যের মসনদে বসার পর রাজ্যজুড়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দিকে দিকে বিজেপি সিপিএম কর্মী সমর্থকদের উপর চলে হামলা। সেই ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি সরোজমিনে দেখতে রাজ্যে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, আসে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল।
নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ছিল হুগলির ধনিয়াখালি। আজ সেখানেই আসেন ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে চক সুলতানে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের এক প্রকার ধমক দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত আজ হুগলির ধনিয়াখালিতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রতমন্ত্রকের প্রতিনিধি দল। যার নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব গোবিন্দ মোহন। চক সুলতানে পৌঁছানোর আগে তাঁদের কাছে অভিযোগ, আসে এলাকার বাসিন্দাদের নাকি আগে ভাগেই হুমকি দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। তাদের ঘটেছে বা ঘটনা সম্পর্কে মুখ খুলতে বারণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের ধমক দেয় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন-মৃতদেহের ভিড়ে বিকল হচ্ছে চুল্লি! নিমতলা মহাশ্মশান স্তুপাকৃতি ৩০০ মৃতদেহ
যেখানে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক রয়েছে সেখানে পুলিশ কি করছে? পুলিশকে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, ‘আপনারা এখানে কী করছেন? আপনাদের কোনও সাহায্য আমাদের দরকার নেই। আপনারা এখান থেকে যেতে পারেন।’
এরপরই চক সুলতানের আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলার পর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা লুকাবাটির চিতলে যান। সেখানে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেখানেও রাজ্য পুলিশকে ধমক দিতে হয় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের। কারণ, ২ সিভিক ভলান্টিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আক্রান্ত পরিবারগুলোর কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ডিং করছিলেন। তা চোখে পড়ে কেন্দ্রীয় দলের। তারা ২ ভলান্টিয়ারকে সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেন।
ভোটের ফল প্রকাশ্যে পর থেকেই ওই দুই এলাকার প্রায় ৭০টি পরিবার ঘরছাড়া। একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম থেকেই গেরুয়া শিবির দাবি করে আসছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।





