আর জি কর কাণ্ড (Rg kar incident) নিয়ে এখনও তোলপাড় হয়ে উঠছে রাজ্য (west bengal) থেকে দেশ। নির্যাতিতার মৃত্যুর পর কেটে গেছে ২১ দিন, এখনও সুবিচার মেলে নি। তাই লড়াই জারি রেখেছেন সকল ডাক্তারি পড়ুয়ারা। সুপ্রিম কোর্ট (supreme court) অনুরোধ করেছেন তাদেরকে কাজে ফিরে যেতে, একই সাথে কাজে ফেরার অনুরোধ করেছেন রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamta Banerjee)। কিন্তু সঠিক বিচার না পেলে তারা আন্দোলন জারি রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা সাফ বলেন, “আমরাও কাজে ফিরতে চাই। কিন্তু যে দাবিতে আন্দোলন দাবি পূরণ না হলে কীভাবে ফিরবো কাজে?” গত ৯ই আগস্ট নিজের কর্মক্ষেত্রে ডিউটি করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হন আর জি করের মৃত চিকিৎসক পড়ুয়া। তার ধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডের ভয়াবহতা দেখে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। তাই নির্যাতিতার লড়াইকে নিজেদের লড়াই করে প্রত্যেক মুহূর্তে সঠিক বিচারের আশায় পথে নামছেন সাধারণ মানুষ।
এই ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হলেও নির্যাতিতার পরিবার থেকে আন্দোলনরত ডাক্তার পড়ুয়া সবাই মনে করছেন যে, এরকম একটি ভয়াবহ দুষ্কর্ম কোনও একজন মানুষের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। আরও কেউ জড়িত আছে এতে। বৃহস্পতিবারও মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্যাতিতার বাবা-মা বলেন, “যেভাবে এক একটা দিন চলে যাচ্ছে তাতে মেয়েটার সুবিচার পাবে তো?”
গত ১৪ই আগস্ট মধ্যরাত্রে আরজি করে পড়ুয়াদের আন্দোলন মঞ্চে দুষ্কৃতিদের হামলা ঘটে এরপর আদালতের নির্দেশে আর জি করের নিরাপত্তায় সিআইএসএফ নিযুক্ত করা হলেও চিকিৎসক পড়ুয়ারা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছেন না। আন্দোলনকারী এক ডাক্তারি পড়ুয়া বলেন,“সিআইএসএফ থাকলেও আমরা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছি না। কারণ ঘটনাটা একজন ঘটায়নি, একাধিক জন ছিল। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার তো দূরে থাক চিহ্নিত করাও হয়নি। অর্থাৎ খুনিরা এই আর জি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এরপরও কীভাবে বলবেন আমরা সুরক্ষিত?”
অন্য একজন পড়ুয়া বলছেন, তারাও কাজে যোগ দিতে চান কিন্তু নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। আন্দোলনকারী আরেক পড়ুয়ার কথায়,“আমরাও কাজে যোগ দিতে চাই কিন্তু তার আগে অন্তত দোষীদের চিহ্নিত তো করুক। সেটুকু না হলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?” একই সাথে বারংবার অভিযোগ করা হচ্ছে যে জুনিয়র চিকিৎসকরা আন্দোলন করছেন বলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে! এই অভিযোগ খণ্ডন করে এক আন্দোলনকারী পড়ুয়া বলেন, “এই যে বলা হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এই অভিযোগ নয়। কারণ আমরা কাজ না করলেও সিনিয়র চিকিৎসকরা একেকজন টানা ৪৮ ঘন্টাও ডিউটি করছে। তবে এটা ঠিক কর্মবিরতির কিছুটা প্রভাব অবশ্যই পড়েছে চিকিৎসা পরিষেবায়।”
তাদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘাটতি হচ্ছে না বলে দাবি করে আর এক পড়ুয়া বলেছেন,“ পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব তো সিনিয়র চিকিৎসকদের। তাদের পদের ঘাটতি রয়েছে বলেই আমাদের দিয়ে সেটা পূরণ করানো হতো। কিন্তু আদতে আমরা তো শিখতে এসেছি সরকারের তো উচিত শূন্য পদে পূরণের করা”।
আরও পড়ুনঃ আগের চিঠির উত্তর মেলেনি, ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত শাস্তি ও কঠোর আইন আনার দাবী জানিয়ে ৮ দিনের মধ্যে মোদীকে ফের চিঠি মমতার
আর একজন বলেছেন যে যারা সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করল তাদেরকে কেন চিহ্নিত করা যাচ্ছে না! এই মানুষগুলো যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তাহলে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? একজন আন্দোলনরত পড়ুয়া সরাসরি বলেছেন,“দুষ্কৃতীরা দিনের আলোয় ঘুরে বেড়াবে, যারা তথ্য লোপাট করল তাদেরই বা ধরা হচ্ছে না কেন সরকারের অসুবিধেটা কোথায়? আমরা তো কাজে ফিরতে চাই। কিন্তু তার আগে অন্যতম দাবি তো পূরণ করতে হবে। তা না হলে নো সেফটি, নো ডিউটি।”





