যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্র বিদ্যুৎ আইনে যে বদল এনেছে তা রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করেনি বলে দাবি করেছে মমতা সরকার। শুক্রবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। এই চিঠিতে তিনি সংশোধিত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ বিলটি জনবিরোধী, কৃষক বিরোধী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের স্বার্থ বিরোধী। এই বিলটি যেমন মফস্বলবাসীদের জন্য অসুবিধাজনক তেমনি গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারীরাও এই বিলের কারণে বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই অবিলম্বে বিলটি প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেছেন, আইন অনুযায়ী প্রথমে উপভোক্তাদের মোটা টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। পরে ভর্তুকির টাকা উপভোক্তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডিটিবি) পেয়ে যাবেন। কিন্তু যে সমস্ত উপভোক্তার সময় বিদ্যুৎ বিল মেটাতে পারবেন না তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। এই ব্যাপারটি অনৈতিক। মুখ্যমন্ত্রীর আরও আশঙ্কা, দেশের যে সমস্ত মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই তাঁদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো আদৌ সফল হবে কি না।
অপরদিকে, এই বিলের বিরোধিতা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, এই আইন সংশোধনের বিরোধিতা করে জুনের শুরুতে দেশজুড়ে কালা দিবস পালন করেছে বিদ্যুৎকর্মী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের ১৪টি সংগঠনের যৌথ কমিটি।
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিলে শুধু একনায়কতন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজ্য। বিদ্যুৎ শুল্ক নির্ধারণের জন্য এই বিলে কেন্দ্রের গঠিত সংস্থাকেই ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্যের হাতে আর কোনো ক্ষমতা থাকছে না। এই ব্যাপারেই তীব্র আপত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেকথাই তিনি চিঠিতে লিখেছেন। বিদ্যুৎ পরিবহণ ও সংবহন এবং বণ্টন সংক্রান্ত আইনি বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য ইলেকট্রিসিটি কনট্র্যাক্ট এনফোর্সমেন্ট অথরিটি (ECEA) নামে একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। বিবাদ মেটাতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নামে দু’টি সংস্থা রয়েছে। আরও একটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মমতা।
তাছাড়া, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নতুন সংস্থায় রাজ্যগুলির কোনও প্রতিনিধিত্ব থাকবে না। একে কেন্দ্রের অসাধু উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী নয় বলে মনে করছেন মমতা।






