দাদা-ভাইদের দীর্ঘায়ু কামনা করে ভাইফোঁটার দিন তাদের কপালে দই-চন্দনের ফোঁটা দেন বোন-দিদিরা। কিন্তু সেই ফোঁটাই যে ভাইয়ের জীবনে শেষ মুহূর্ত ডেকে আনবে, এমনটা হয়ত কল্পনাও করেন নি দিদি। ভাইফোঁটা নিতে গিয়ে তাঁর বাড়িতেই খুন হতে হল ভাইকে। ভাইফোঁটার মিষ্টির রসে মিশল ভাইয়ের রক্ত!
এমন ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের সাহাপুরের বাগানপাড়ায়। মৃত যুবকের নাম রবি মণ্ডল। ইংরেজবাজার তেলিপুকুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁর দিদি প্রীতি মণ্ডলের সঙ্গে সেতু মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবক রকি স্বর্ণকারের বিয়ে হয়েছিল। সেই দিদির বাড়ি গিয়েই প্রাণ খোয়া গেল যুবকের।
জানা গিয়েছে, ভাইফোঁটার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দিদির বাড়ি গিয়েছিলেন রবি মণ্ডল। সেখানে ভাইফোঁটার প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছিল। ভাইতের প্লেটে মিষ্টি সাজিয়েও রেখেছিলেন দিদি। কিন্তু এরই মধ্যে স্বামীর সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা বাঁধে মহিলার। দিদি-জামাইবাবুরর ঝামেলা থামাতে মধ্যস্থতা করতে যান রবি।
অভিযোগ, সেই সময় দিদির শ্বশুর উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে একটি ক্রিকেট ব্যাট এনে মারতে থাকে রবিকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রবি। তুমুল রক্তাক্ত হন তিনি। স্থানীয়রা ছুটে আসেন। যুবককে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ ৭ বছরের শিশুকন্যাকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণ, দাদুর কুকর্মে ক্ষতবিক্ষত নাবালিকা, ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩ নাবালিকা ধর্ষণ
অভিযোগ, পুলিশকে না জানিয়ে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত না করেই যুবকের দেহ দিদির বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পুলিশ খবর পেয়ে যায় ওই বাড়িতে। এরপর ফের দেহ পাঠানো হয় ওল্ড মালদহ মৌলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখান থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যুবকের দিদির শ্বশুর পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তবে পুলিশ ধরে ফেলে গ্রেফতার করে তাকে। শোকের ছায়া যুবকের দিদির বাড়িতে।






