১৮২৫ এনকাউন্টার! দেশকে রক্ষা করতে একের পর এক এনকাউন্টার জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম মহিলা পুলিশ অফিসার সাহিদা পারভীন গাঙ্গুলীর

সাহিদা পারভীন গাঙ্গুলী (Shahida Parveen) মধ্যবয়সী এই মহিলার ভয়ে কেঁপে ওঠে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ডন থেকে শুরু করে আততায়ীরা। এক হাজারের বেশি এনকাউন্টার করেছেন তিনি। জম্বু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন কমিশনার অফ পুলিশ ও এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট এই মহিলা পুলিশ অফিসার। সাহিদা পারভীন গাঙ্গুলী (Shahida Parveen) জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম মহিলা পুলিশ অফিসার। জানা যায়, তার কেরিয়ারের প্রত্যেকদিনই অন্তত একটি করে এনকাউন্টার করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে তার পোস্টিং ছিল প্রায় পাঁচ বছর। সে হিসেব করলে এনকাউন্টারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২৫।

বর্ডারে এমন অনেক কিছুই ঘটে যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। খবরের চ্যানেল বা প্রিন্ট মিডিয়া যে সমস্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে পারেনা সেইসব দুর্গম অঞ্চলে আততায়ীদের রুখতে সামনে দাঁড়ায় এই মহিলা। সাহিদা পারভীন গাঙ্গুলী (Shahida Parveen) একজন ভারতীয় আর্মি অফিসারের স্ত্রী। তার দুই সন্তান রয়েছে। শুধু ন্যাশনাল ডিউটি নয়, বর্ডার সামলানোর পাশাপাশি তিনি একজন গৃহিণী‌। তিনি এক হাতে বন্দুক চালাতে ওস্তাদ, তেমন সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষতি যেন না হয় সে বিষয়ে নজর রয়েছে তার।

সম্প্রতি, সাহিদা পারভীন গাঙ্গুলী (Shahida Parveen) এক সাক্ষাৎকারে জম্বু কাশ্মীরে তার একটি এনকাউন্টারের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার একজন বিশ্বস্ত ইনফর্মারকে প্রায় দুশো মানুষের সামনে হত্যা করেছিলেন এক দল দুষ্কৃতী। প্রায় সকলেই জানে, পুলিশ অফিসারের একজন বিশ্বস্ত ইনফর্মার থাকে। ‌সাহিদার একজন বিশ্বস্ত ইনফর্মার ছিলেন একজন মহিলা। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে বহু এনকাউন্টারে সাহায্য করেছিলেন ওই মহিলা।

আততায়ীরা সেই খবর পেয়ে গিয়ে, ওই মহিলাকে অপহরণের ছক কষে। সাহিদা (Shahida Parveen) তার সমস্ত শক্তি দিয়ে রক্ষা করতেন তার বিশ্বস্ত ইনফর্মারটিকে। হামলাকারীরা জানত এত সহজে ওই মহিলাকে ধরা যাবে না। তাই হামলাকারীরা ওই মহিলা ইনফর্মারকে একজন কাকাতো বোনের সাহায্যে ধরে আনে। মহরমের দিন প্রায় ২০০ মানুষের সামনে তাকে হত্যা করে। সাহিদা পারভীন সাত দিনের মাথাতেই ওই দলের মাথাকে এনকাউন্টার করে।

সাহিদা পারভীনের (Shahida Parveen) ধর্ম নিয়ে নানান মত রয়েছে। তিনি ধর্ম বলতে বোঝেন তার বর্ম। তিনি মনে করেন তার কর্ম হল তার রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে ভারত মাতাকে রক্ষা করা। আজকাল আমরা নারীবাদকে বিভিন্ন কিছুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি।আমরা ভুলে যাই যে এমন অনেক মহিলা রয়েছেন যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশকে গর্বিত করছেন। সাহিদা পারভীন একজন নির্ভীক মহিলা, যিনি মনে করেন মহিলারা পারে না বলে এমন কোন কাজ হয় না। শুধু নারীদের সঠিক পথে চালিত হতে হবে।

আরও অন্যান্য খবর