দফায় দফায় উত্তপ্ত হচ্ছে সন্দেশখালি। সেখানকার ত্রাস তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান এখনও পলাতক। বারবার তাকে হাজিরার নির্দেশ জারি হলেও কোনও খোঁজ মিলছে না তৃণমূল নেতার। এরই মধ্যে এবার শাহজাহানের সাগরেদ শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন সন্দেশখালির মহিলারা। তাদের বিরুদ্ধে উঠল শ্লী’ল’তা’হা’নির অভিযোগ। হাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে প্রতিবাদ দেখিয়ে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারির দাবী তোলেন সন্দেশখালির মহিলারা।
কী অভিযোগ উঠেছে?
গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে যেন তীব্র আকার নেয় সংঘর্ষ। এলাকায় কয়েকশো মহিলারা বিক্ষোভ দেখান হাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে। অভিযোগ, শাহজাহানের নেতৃত্বে তাঁর সাগরেদরা তাদের ভিটেমাটি তো কেড়ে নিয়েছেই। তাদের সম্মানও কেড়েছে শিবু, উত্তমরা। শ্লী’ল’তা’হা’নি করেছে তাদের।
কী জানান এলাকার মহিলারা?
এলাকার মহিলাদের অভিযোগ, শিবু, উত্তমরা তাদের উপর শা’রী’রি’ক নির্যাতন চালিয়েছে। মহিলারা জানান, এলাকার সুন্দর দেখতে মহিলাদের রাত বিরেতে পার্টি অফিসে ডাকা হত। নানান ছুঁতোয় তাদের দিয়ে কাজ করানো হত। এমনকি, কেউ রাজি না হলে জোর করে বাড়ির মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হত পার্টি অফিসে মিটিংয়ের ছুঁতো দিয়ে। রাতভর পার্টি অফিসে ধরে রেখে ভোরবেলা বাড়িতে দিয়ে যাওয়া হত মহিলাদের।
কেন পার্টি অফিসে নিয়ে যাওয়া হত মহিলাদের?
সন্দেশখালির মহিলাদের অভিযোগ, শাহজাহানের সাগরেদদের দে’হ’স’ঙ্গি’নী হওয়ার জন্যই তুলে নিয়ে যাওয়া হত মহিলাদের। ঘরে স্বামী থাকলেও, স্বামী হয় ওই সাগরেদদের অধিকার থাকত মহিলাদের উপর। এই কাজে বাধা দিলে বলা হত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তো দেওয়া হচ্ছে, তারপরও এত কথা কীসের।
শুধুমাত্র শাহজাহান বা তার সাগরেদরাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও ক্ষোভ বর্ষণ করেন সন্দেশখালির মহিলারা। তাদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী কী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৫০০, ১০০০ টাকা দিয়ে আমাদের সম্মান কিনে নিয়েছেন নাকি। এখানে এমন কাণ্ড হচ্ছে, উনি সেসব কী জানেন না? উনি কেন কোনও পদক্ষেপ নেন না এই নিয়ে। উনি মুখ্যমন্ত্রী নয়, মূর্খমন্ত্রী”। মহিলাদের দাবী, সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর এই অত্যাচার যেন বন্ধ হয়। শাহজাহানের সাগরেদদের গ্রেফতারির দাবী তুলেছেন তারা।
কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই রাজ্যে কোনও আইনের শাসন নেই। এই ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়। আজ যাঁরা আগুন লাগিয়েছেন, তাঁদের তো জীবনেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন শেখ শাহজাহান ও তাঁর ভাই আলমগিররা। ওই গ্রামের মহিলাদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, সবটা বলবে। আজ পুলিশকে গিয়ে বললে পুলিশ বলে আমি কিছু করতে পারব না, শিবুকে গিয়ে বলো”।






